Published : 07 Jul 2025, 09:42 PM
সিলেটে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি ডাকা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর নিউ গ্র্যান্ডভিউ হোটেলে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি এবং জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রো বাস শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক।
রোববার প্রশাসনকে দাবি পূরণে স্মারকলিপি দিয়ে মঙ্গলবার থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি ঘোষণা দেওয়া হয়।
একই লক্ষ্যে সিলেটের ট্রাক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে পুরো জেলায় শনিবার থেকে ৭২ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট সোমবার শেষ হয়।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হল, সড়ক পরিবহন আইনের ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কভার্ডভ্যানে ২৫ বছর, সিএনজি চালিত ও ইমা লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা; সিলেটের সকল পাথর কোয়ারির ইজারার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া; বিআরটিএ কর্তৃক সব গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ওপর আরোপিত বার্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার; সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুর মিলের ক্ষতি পূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ; সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং সিলেটের পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা।
সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মলনে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ময়নুল হক বলেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।’’
তবে আগেই জানতে পেরে রোববার রাতেই এক সভায় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান আহমদ মঙ্গলবারের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাখ্যান করে গাড়ি চালানোর ঘোষণা দেন।
যদিও শ্রমিক ইউনিয়নের ময়নুল হকের ভাষ্য, “লোকমান আহমদকে? তাকে আমরা চিনি না। তার কোনো গাড়ি নেই। তিনি বাস মালিক সমিতির নেতাও নন। তিনি আমাদের কর্মসূচির সাথে আছেন কী নাই, তাতে কিছু আসে যায় না।”
অন্যদিকে, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটো-টেম্পু, ট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার মালিক সমিতির উদ্যোগে এক সভা সোমবার বিকালে সিলেট বিআরটিএ অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায়ও মঙ্গলবার থেকে ডাকা কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে নেতারা বলেন, সিলেটজুড়ে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের যানবাহন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
সমিতির কার্যকরী সভাপতি জামিল আহমেদ লিটনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি হানিফ মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. বুলবুল আহমদ, অর্থ সম্পাদক বেলাল আহমদ, সহঅর্থ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, আম্বরখানা উপশাখার সভাপতি রিপন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি দাশ, অর্থ সম্পাদক শামীম আহমদ, কদমতলী উপশাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম, সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিক হেলাল আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, বেলাল আহমদ, জামিল আহমদ, কবির আহমদ, বদরুল ইসলাম, চুনু মিয়া, আবু সাঈদ ভুট্টু।
এছাড়া উপ শাখা কমিটির নেতা ও সাধারণ মালিকরাও ওই সভায় ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট জেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটো-টেম্পু, ট্যাক্সি, ট্যাক্সি কার মালিক সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ধর্মঘটের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
বক্তারা যাত্রীদের সেবা দিতে সিলেট জেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটো-টেম্পু, ট্যাক্সি, টেক্সিকার চালানোর জন্য শ্রমিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।