১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখল, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিএনপি নেতা।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jan 2025, 11:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:41 AM

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলের নেতাদের নাম ব্যবহার করে বাড়ি-জমি দখল, অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার বিকালে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম 

এবং ব্যবসায়ী গোলাম আজম তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলেন।

পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চাকরি ও ব্যাংকের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত; হয়রানি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার অভিযোগও উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার, পলাশবাড়ী উপজেলার আসমতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই চাকরি থেকে অবসর নেন। 

তিনি দাবি করেন, “বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ আমার পূর্ব পরিচত। এই সূত্রে তিনি আমাকে গরুর খামার করার জন্য তিন কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে রাজি হলে তিনি কৌশলে ২০২২ সালের ২৫ ও ২৮ আগস্ট দু’দফায় আমার কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ না পাওয়ার কারণে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। আমি তার এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাই। এ অবস্থায় আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।” 

রফিকুল বলেন, “বর্তমানে টাকার অভাবে আমার অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। এ নিয়ে বিভিন্নজনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। বিপরীতে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন আবুল কালাম আজাদ।”

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা সদরের কালিবাড়ি এলাকায় ব্যবসায়ী গোলাম আজম বলেন, গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেন। 

তিনি বলেন, “গত ৬ অগাস্ট পলাশবাড়ীর কালিবাড়ি এলাকার সাত শতক জমিসহ আমার ঘরবাড়ি দখল করে নেন বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ। ঘরবাড়ি হারিয়ে আমি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”    

তার অভিযোগ, “এর আগে ওই বিএনপি নেতা এ জমির জন্য আমার বাবাকেও হত্যার চেষ্টা করেছেন।” 

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হিসেবে আসা একাধিক ব্যক্তি বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ভুক্তভোগী দাবি করাদের মধ্যে আছেন, মোছা. শেলী বেগম, মোছা. শাপলা বেগম, সিমা খাতুন। 

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার কাছে রফিকুল কোনো টাকা পাবেন না। তিনি উল্টো রফিকুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা পাবেন। 

এনিয়ে তিনি গাইবান্ধা আদালতে একটি মামলাও করেছেন বলে দাবি তার।

আবুল কালাম আরও বলেন, এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের কালিবাড়ি এলাকার বাড়িটি তিনি বিগত ২০০৫ সালে ক্রয় করেছেন। এই সূত্রে তিনি এই বাড়িতে বসবাস করছেন। এই ঘরবাড়ি নিয়েও আদালতে মামলা চলমান আছে।