মাদারীপুরে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০
সন্ধ্যার পর থেকে শহরের ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মাদারীপুরে শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সী হত্যার জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণে শহরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ধরে শহরের ২নং ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল থেকে দেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং নূর ইসলাম হাওলাদার নামে একজনকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্থানীয় দুই পক্ষের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও শনিবার তা বড় আকার ধারণ করে। দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশি অস্ত্র উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের একদিকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদারীপুর পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার। অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর উপজেলা শ্রমিক দল নেতা হাছান মুন্সী। তিনি সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সীর ভাই।
আগের ঘটনার জের ধরে শনিবার ভোরে আক্তার হাওলাদার পক্ষের লোকজন শ্রমিক দলের নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আক্তার হাওলাদারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা লিটন হাওলাদারকে মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হত্যা, সংঘর্ষসহ একাধিক মামলা থাকায় কমিটির বিরোধিতা করেন সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সী। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে শাকিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সদর থানায় শাকিলের ভাই হাছান মুন্সী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আক্তার হাওলাদার গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
