১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোখরার ছোবলে হাসপাতালে ‘সাপুড়িয়া’, বললেন ‘ওঝার কেরামতিতে বিষ নামে না’

“সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় ‘অসাবধানতাবশত’ সেটি আমাকে হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়।”

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2026, 04:21 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:41 PM

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গোখরা সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন নিজেকে সাপুড়িয়া ও বিষ ঝাড়া ওঝা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি।

পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিজেই স্বীকার করেন, বিষধর সাপের ছোবলে কোনো ওঝার ঝাড়ফুঁকে কাজ হয় না; চিকিৎসাই ভরসা।

ভেড়ামারার হিড়িমদিয়া গোরস্তানপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ৩৮ বছর বয়সী ইমরান হোসেন একজন সাপুড়িয়া। 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়িপাড়া এলাকায় আমিরুল ইসলাম নামের একজনের বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে একটি গর্ত থেকে গোখরা সাপ ধরার সময় সাপটির কামড়ে আহত হন তিনি।

ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটি ধরার চেষ্টাকালে ‘অসাবধানতাবশত’ সাপটি তার হাঁটুর ওপর ছোবল দেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন বলছিলেন, “গত বৃহস্পতিবার গৃহকর্তা আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট (২২) নিজ বাড়িতেই সাপের কামড়ে মারা যান। পরদিন শুক্রবার ওই বাড়িতে সাপ দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। ভয় পেয়ে তারা আমাকে খবর দেয়।” 

সাপুরিয়া পরিচয় দেওয়া এ ব্যক্তির ভাষ্য, “বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করি। সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমাকে হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। 

“পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।” 

নিজেকে সাপুড়িয়া ও বিষ ঝাড়া ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরানের কাছে নিজের বিষ না ঝেড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শুনেন ভাই আসল মালে যদি ছোবল দেয় তাইলে মায়েরো না বাপেরো না। কোনো শালার ওঝার বাপ দাদা চৌদ্দগুষ্টির কেরামতি নেই যে গুক্কু সাপের বিষ নামায়।”  

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান বলেন, “ইমরানকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।”