রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ে ভোটের বার্তা নিয়ে জেলা প্রশাসক
দুর্গম এই কেন্দ্রগুলোতে ভোটের মালামাল ও লোকজন আনা-নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
রাঙ্গামাটির দুমদুম্যা ইউনিয়নে যেতে হলে জুড়াছড়ি উপজেলা থেকে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ বেয়ে যেতে প্রায় দুই দিন লেগে যায়। আরেকটা পথ আছে রাঙ্গামাটি হয়ে কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে। তাতে পথের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
পথের এই দুর্গম চরিত্রের কারণে দুমদুম্যা এক রকম বিচ্ছিন্ন জনপদ। সেখানে কখনো ভোটকন্দ্র পরিদর্শনে যাননি রাঙ্গামাটি জেলার কোনো জেলা প্রশাসক।
সোমবার দুর্গম দুমদু্যমায় গিয়ে ভোটের বার্তা দিয়ে এলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ভোটের বার্তা পৌঁছানোর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দুর্গম হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র, ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুম্যাদুম্যা ইউনিয়নের দুর্গম বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
এই হেলিসর্টি এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করলেন। এই ভোটকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিহীন৷
ফারুয়া ইউনিয়নের ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুম্যাদুম্যা এই দুইটি কেন্দ্র হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে সরকারি তালিকায় উল্লেখিত। এই কেন্দ্রগুলোতে ভোটের মালামাল ও লোকজন আনা-নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন ও বক্তব্য দেন।
প্রচারের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য তাদের মাতৃভাষায় গণভোটের প্রচারপত্র তৈরি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। সেগুলো হাতে হাতে বিলি করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় তিনি স্থানীয়দের হাতে উপহার হিসেবে কিছু কম্বল তুলে দেন।
