১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা, পুনঃস্থাপনের দাবি

জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 06:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্য পরিদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকার থেকে আগত নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় প্রতিনিধিদলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্য পরিদর্শন করেন এবং বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হয়। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সারাদেশে সমালোচনা তৈরি হয়। 

মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠর পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিক্ষোভ করেন। 

এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদলটি ঝিনাইদহ সফর করে।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক, অগ্রদূত সম্পাদক আবু সাইদ খান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল। 

কর্মসূচিতে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের বোন রিজিয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

ভাস্কর্য চত্বরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে আবু সাইদ খান মেহেরপুরের মুজিবনগরের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা তুলে ধরেন এবং সম্প্রতি দেশে ঘটমান এ ধরনের পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।

নূর খান লিটন বলেন, “আজকে এভাবে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য উপড়ে ফেলা হয়েছে। দুঃখজনক হচ্ছে প্রশাসনের কেউই এ ব্যাপারে জানেন না। এটা আমার মুক্তিযুদ্ধের যে অস্তিত্ব, আমার দেশের অস্তিত্ব, হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, আমার প্রাণের অস্তিত্ব। 

“যারা এ ধরনের কাজ করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের না। এদেশের বিরোধী শক্তি, সে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এবং এ ভাস্কর্য পুনঃনির্মাণ করতে হবে। আরও সুন্দরভাবে এবং এখানেই।”

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ভাস্কর্য ভাঙার তীব্র নিন্দা করে বলেন, একাত্তরের সঙ্গে আপস করে বাংলাদেশে কোনো কিছু চলতে পারে না।

জাকির হোসেন বলেন, ভাস্কর্য ভাঙ্গার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।