‘ভয়-অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে’ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।
সাধারণ মানুষকে ভয়-অনিশ্চয়তা-আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।
তিনি বলেছেন, “আমাদের মধ্যে এখন অনেক হতাশা। যেমন ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিকে মৃত আইন ঘোষণার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়ামে ছাত্র-যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক এ গেরিলা নেতা বলেন, “গ্রামে যখন ঘোর অন্ধকার নামে, ঝিঁঝি পোকারা ডাকে, তখন সাধারণ পাহাড়ি জনগণ ভয়ের মধ্যে থাকে। কখন কাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাধারণ মানুষ একা অনুভব করেন।”
নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন দাবি করে ঊষাতন আরও বলেন, “নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনসংহতি সমিতির কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে সরকারের ওপর মহলে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদি আমাদের কথা শোনা না হয়, তবে এই ছাত্রসমাজকে প্রস্তুত হয়ে লড়াই চালিয়ে নিতে হবে।”
ঊষাতন বলেন, “সরকার বলে- ‘আমরা এই করেছি, সেই করেছি’। জাতিসংঘে গিয়ে মিথ্যাচার করে। আমাদের জনগণ শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখে তৃতীয় পক্ষ ছাড়া চুক্তি করেছে। কিন্তু এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।”
সংগঠনটির সভাপতি নিপন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক থোয়াইক্যজায় চাকের সঞ্চালনায় সমাবেশটি উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মাধবীলতা চাকমা।
এছাড়াও ছিলেন শিক্ষাবিদ ও কবি শিশির চাকমা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ই, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা।
শিশির চাকমা বলেন, “সামনের রাজপথ মসৃণ নয়, যেভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করা হচ্ছে, সেই সকল বাধাকে প্রতিহত করে ছাত্রসমাজকে সম্মুখে অগ্রসর হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত থাকলে বাংলাদেশ শান্ত থাকতে পারে না।
“ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, আদিবাসী মানুষ সাধারণভাবে বাঁচতে চায়, তাদের সমুন্নত মানসম্মান নিয়ে।”
সুমিত্র চাকমা বলেন, “১৯৮৯ সালের ২০ মে ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জন্ম হয়। পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পাহাড়ের যেকোনো আন্দোলনে ছিল সর্বদা প্রাগ্রসর।
“পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে এসেও সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়ন না করে উল্টো উন্নয়নের নামে পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।”
সমাবেশে মুক্তা বাড়ৈই বলেন, “সরকার বারবার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।”
বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নসহ পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান তিনি।
শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আজ আমাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। ১৯০০ সালের ঐতিহাসিক শাসনবিধি দলিলকে বাতিলের জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জুম্ম জনগণের স্বপ্নের সনদ পার্বত্য চুক্তিকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠীকে জানান দিতে চাই, জুম্ম জনগণ যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই, সরকার যদি যুদ্ধের বায়না ধরে জুম্ম জনগণ বসে থাকবে না।”
দীপক শীল বলেন, “পাহাড় কি বাংলাদেশের মানচিত্রের বাইরে? স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হওয়ার পরও পাহাড় সেনা বাহিনীর দ্বারা শাসিত হবে। পার্বত্য চুক্তিকে বাস্তবায়নের নামে একটি নাটক সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তা না হলে ২৬ বছর পেরিয়ে যেত না পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের।
বর্তমান সরকার ‘কথিত গণতন্ত্রের নামে একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছে’ দাবি করে তিনি বলেন, “সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হবে। যেখানে সকল জাতিসমূহের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে নিপন ত্রিপুরা বলেন, “শাসকগোষ্ঠীর কেএনএফ সন্ত্রাসী দমনের নামে সাধারণ বম জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের আন্দোলন চলমান থাকবে।”
পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে ছাত্র-যুবসমাজকে অধিকতর শামিল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা।
