১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাগেরহাটে ‘চোরাই’ ৮ রিকশা ও ১১ শ্যালো মেশিনসহ গ্রেপ্তার ৪

উদ্ধার রিকশা ও শ্যালো মেশিনগুলো চুরি ও ছিনতাই করা বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে সেগুলো কেনা বলে দাবি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের।

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 09:43 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

বাগেরহাটে ব্যাটারিচালিত আটটি রিকশা ও ১১টি শ্যালোমেশিনসহ চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

রোববার রাতভর বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

অভিযানে উদ্ধার রিকশা ও শ্যালো মেশিনগুলো চুরি ও ছিনতাই করা বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে সেগুলো কেনা বলে দাবি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের।  

গ্রেপ্তাররা হলেন, বাগেরহাট পৌরসভার বাসাবাটি এলাকার মোতালেব হাওলাদারের ছেলে মো. ফারুক হাওলাদার (২৮), একই এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে শাহ আলম (২৯), পৌরসভার খারদ্বার এলাকার আব্দুল গনির ছেলে আব্দুল হালিম (৪৫) এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নয়ন সরদারের ছেলে আব্দুল্লাহ সরদার (২১)।

সোমবার বিকালে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১২ জুলাই বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। 

সেই মামলার আসামিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্তে নামে। তার  ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে ফারুক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পরে একটি গ্যারেজ থেকে তিনটি চোরাই রিকশা উদ্ধার করা হয়। 

তার মধ্যে দুটির মালিকানা দাবি করা দুই ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই তিনজনের দেয়া তথ্যমতে আরও একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি রিকশা ও ১১টি শ্যালোমেশিন উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সুপার বলেন, “গ্রেপ্তাররা এই অটোরিকশা ও শ্যালোমেশিন কোথা থেকে কবে কেনা হয়েছে তার তথ্য প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। ক্রয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা পুলিশকে দেখাতে পারেনি।”

তবে আসামি আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে ভাঙাড়ি (পুরানো লোহার যন্ত্রাংশ) কেনাবেচার ব্যবসা করেন। পাশাপাশি তার নিজের সাতটি ব্যাটারিচালিত রিকশা আছে। যেগুলো ভাড়ায় চলে। আটক করা পুরানো রিকশাগুলোও অন্যের কাছ থেকে কেনা।

তিনি বলেন, “আমি এখন ফেঁসে গেছি। আমি এই অটোরিকশাগুলো চুরি করিনি। আমার পরিশ্রমের টাকায় এই অটোরিকশাগুলো কেনা, আমি নির্দোষ।”

তার দাবি, সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) উদ্যোগ নেয়নি। যার কারণে তার মালিকানাধীন রিকশার কোনো নিবন্ধন নাম্বার নেই, কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। 

তবে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জেলার  বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাটারিচালিত রিকশা  ছিনতাই ও চুরি বেড়েছে। এতে জড়িত আরও কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে তাদেরও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।