১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ অফিস খুলে নেতাকর্মীদের মোনাজাত, ‘ভাঙচুর চালিয়ে তালা দিল ছাত্রদল’

“নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া উসকানিমূলক কাজ।”

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 07:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছাত্রদল সেখানে ভাঙচুর করে আবার তালা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তালাবদ্ধ থাকা কার্যালয়টি সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলে

ধোয়া মোছার পর দোয়া-মোনাজাত করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।   

এরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরে সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন। পরে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেন বলে দশমিনা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সোহাগ প্যাদা জানিয়েছেন।  

যদিও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম সানু।

ছাত্রলীগের কর্মী সোহাগের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল মনে হওয়ায় তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে দলীয় অফিস খুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন। কিন্তু উপজেলা ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরা এসে তাদের প্রতিহত করে অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে পরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এরপর পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান শুরু করে।

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, সকালে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী কার্যালয় খুলে অবস্থান নেন। পরে ছাত্রদলের কর্মীরা এসে তাদের প্রতিহত করেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ; তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলছে।”

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় তারা দলীয় স্লোগানও দেন।

এর পরপরই উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’, ‘কে বলেছে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’, ‘খালেদা জিয়ার অ্যাকশন, তারেক জিয়ার অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বাশারকে ফোন করেও তার সাড়া মেলেনি।

পটুয়াখালী ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শামীম চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ; তাই আইন আইনের গতিতে চলবে। যদি কোন দিন আইনীভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু হয় তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের কিছু বলবে না।”

দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম সানু বলেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া উসকানিমূলক কাজ। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।”

তবে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি এ বিএনপি নেতা।