১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও জাবিতে ভিপি-জিএসের নির্দেশে চলছে মাঠ সংস্কার

“হলের শিক্ষার্থীরা মাঠের সংস্কারকাজ চালু রাখার পক্ষে। তাই কাজ চলছে। বৈধ কারণ ছাড়া প্রশাসন মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ করতে পারে না।”

প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও জাবিতে ভিপি-জিএসের নির্দেশে চলছে মাঠ সংস্কার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কার চলছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 05:18 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও চলছে।

হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) অমিত বণিক এবং ও সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) মাহমুদুল হাসান ইমনের নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও কীভাবে কাজ চলছে, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত চলাকালে কাজ বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাঠ সংস্কারের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিতের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্র ছাড়াই লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ তদন্তে অধ্যাপক মাহবুব কবীরকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে মাঠে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। একটি বুলডোজার দিয়ে মাটি সমান করা হচ্ছিল। পাশাপাশি ট্রাক্টরে করে মাটি এনে মাঠে ফেলা হচ্ছিল। কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল ও ঝুড়ি দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করতেও দেখা যায়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিস পাওয়ার পরই তিনি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করে সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিস পাওয়ার পরই আমি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করা এবং সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কাজ চালু রাখার বিষয়ে আমি অবগত নই। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে কিনা, হলে গেলে বিষয়টি জানতে পারব।”

তবে হল সংসদের সহ-সভাপতি অমিত বণিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “হলের শিক্ষার্থীরা মাঠের সংস্কারকাজ চালু রাখার পক্ষে। তাই কাজ চলছে। বৈধ কারণ ছাড়া প্রশাসন মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ করতে পারে না।”

এ বিষয়ে জানতে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ইমনকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তদন্ত চলাকালীন কাজ সাময়িক বন্ধ থাকবে। তদন্তের পরে দ্রুত কাজটি শেষ করে দেওয়া হবে। 

“অনিয়মের জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অসমাপ্ত খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য সাত লাখ ৩১ হাজার টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।