Published : 17 Jul 2025, 08:55 PM
খাগড়াছড়িতে ১৪ বছরের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কিশোরীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে দিনভর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা।
সকালে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ’ ব্যানারে খাগড়াছড়ির উপজেলা সদরের ভাইবোনছড়া মুনিগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের দেওয়ানপাড়া ঘুরে এসে আইডিয়াল স্কুলের সামনে শেষ হয়।
কয়েকশ এলাকাবাসী মিছিলে অংশ নেন। মিছিল চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
একই ঘটনায় বিকালে খাগড়াছড়ি মহাজন পাড়া সূর্যশিখা ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সংগঠনের জেলার সভাপতি জেসলেন চাকমার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন পিসিপির সদর থানার সভাপতি সুশান্ত ত্রিপুরা, সাধারণ শিক্ষার্থী রোনাল ত্রিপুরা, যুব সমিতির সভাপতি ডালিম ত্রিপুরা, পিসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনতোষ।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি শহরে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর শাপলা চত্বরের মুক্তমঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থী ওয়াপাইং মারমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উখ্যেনু মারমা, সাধারণ শিক্ষার্থী কবিতা চাকমা, দেবাশীষ চাকমা, তাতুষান চাকমা, উজ্জ্বল চাকমা, নিশি চাকমা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষকের বিচার হওয়া জরুরি। বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার হয় না। এ কারণে ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৭ জুন ওই কিশোরী ‘দলবেঁধে’ ধর্ষণের শিকার হয়। তবে পরিবার বুধবার রাতে ঘটনাটি জানতে পারে। এরপর রাতেই ওই কিশোরীর বাবা থানায় মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পরপরই রাতে ছয় আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের আরমান হোসেন (৩২), ইমন হোসেন (২৫), এনায়েত হোসেন (৩৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২)।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মো. মুনির ইসলাম (২৯) ও মো. সোহেল ইসলাম (২৩)। তারা পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, “শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “মামলা হওয়ার পরই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী কিশোরী এখন হাসপাতালে আছে। আজ তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
খাগড়াছড়িতে স্কুল শিক্ষার্থীকে 'সংঘবদ্ধ ধর্ষণ', ৪ আসামি গ্রেপ্তার