১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা, রোগীর স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

ওসি বলেন, শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আনোয়ার হোসেনসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 01:38 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মারা যাওয়া রোগীর স্বজনরা। 

একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আহতদের সুচিকিৎসা ও ঘটনার সত্য উদঘাটনের দাবিতে শুক্রবার বিকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে মারা যাওয়া রোগীর পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাজেদুর ইসলাম সাকি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আব্দুল মালেককে (৫৫) হাসপাতালে কর্তব্যরতরা ভুল করে অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইনজেকশন দেয়। এরপরই আব্দুল মালেকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং তিনি মারা যান। 

এ বিষয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে সাকি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খবর পেয়ে তাদের বেশ কয়েকজন স্বজন ও পরিচিত তরুণ হাসপাতালে আসেন। ওই সময় আবাসিক এলাকা ও মেস থেকে আরও অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসক জড়ো হয়ে সঙ্ঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালান হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা বিনা কারণে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য ছিল না। অথচ স্যালাইনের লোহার স্ট্যান্ড, কাঠের বাটাম ও চেয়ার দিয়ে আমাদের স্বজনদের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়। ”

হামলা চালিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার হওয়া নাফিউল ইসলামের স্ত্রী মিতু খাতুন বলেন, “আমার স্বামী রাতে খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল। ভোরে গিয়ে দেখি তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে, তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। 

“সে বর্তমানে এক চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। চোখটি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্ক রয়েছে। আমরা তার দ্রুত জামিন ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।”

আহত প্রান্ত ইসলামের মা নাজনীন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলের নাকের হাড় ও হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে বারবার বমি করলেও তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা ও মানববন্ধন করা হচ্ছে। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, মোবাইল ভিডিও এবং আহতদের চিকিৎসা সনদ পর্যালোচনা করলেই কার হাতে কী ছিল এবং কে প্রথম হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আইনি নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “এ ঘটনায় আহত প্রান্ত ইসলামের মা নাজনীন আক্তার বাদী হয়ে শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আনোয়ার হোসেনসহ ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।”

আগের সংবাদ

বগুড়ায় হাসপাতালে রোগীর স্বজন-ইন্টার্নদের মারামারিকর্মবিরতি

৩৮ ঘণ্টা পর বগুড়া মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার