৩৮ ঘণ্টা পর বগুড়া মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এ কর্মসূচি দিয়েছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দফা দাবিতে ডাকা কর্মবিরতি প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
দাবি পূরণের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৪টার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক মুনজির ই মোর্শেদ।
মঙ্গলবার রাতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে বেলা ১২টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক মুনজির ই মোর্শেদ বলেছেন, “মঙ্গলবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা বেশ কিছু দাবি নিয়ে কর্মবিরতিতে যান। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম আমরা। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
“ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর আমরা তাদের নিরাপত্তাসহ কিছু দাবি আছে। আশা করছি, তাদের দাবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূরণ করতে পারব।”
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সদরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সি আব্দুল মালেক অ্যাজমার জটিলতায় হাসপাতালের সপ্তম তলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে তারা দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন। এ সময় আজরাফ ইসলাম অর্ক নামে আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন।
পরে মেডিকেলের অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আজরাফসহ ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তারা।
পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
এদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শহর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক রাতুল আহাম্মদ রিয়াদ বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত থাকা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
