১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আম্মার রাকসুর দুর্ভাগ্য’, পাবনায় পাঠানোর কথা বলল ছাত্রদল

“উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যদি সিঙ্গাপুরে পাঠানো লাগে, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jan 2026, 05:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর দাবি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব বরারব স্মারকলিপি দেন তারা।

সালাউদ্দিন আম্মার প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “মানুষ যখন স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধির শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছায়, এক পর্যায়ে তাকে বলে পাগলা কুত্তা কামড়েছে।

“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব, আপনারা অতি দ্রুত এই পাগল, পাগলের সুচিকিৎসা করুন। তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতাল ভর্তি করুন অথবা তার বাবা-মার হাতে তুলে দেন। যদি না পারেন তাহলে আমরাই এই পাগলকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠাব।”

এর আগে রোববার বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। 

এর প্রতিবাদে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “সালাহউদ্দিন আম্মারের রাকসুর জিএস নির্বাচিত হওয়া পুরো রাজশাহী বিদ্যালয়ের জন্য একটা ‘দুর্ভাগ্য’। যার চোখের দিকে তাকিয়ে আমরা আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি সে তার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।

“আমরা সুস্পষ্ট ভাবে বলি, টোকাই পিটাতে হেডাম লাগে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি। ধৈর্য্যের যদি বিচ্যুতি ঘটে, বাংলাদেশের কারোর শরীরে মানচিত্র রাখবো না।”

রাবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, “বিজ্ঞানের ভাষায় একটা টার্ম আছে ‘নার্সিসিজম সিনড্রোম’। এই সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যান্য পেশায় বা অন্যান্য ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবে।

“জিএস আম্মারও এই সিনড্রোমে ভুগছে। সে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশসহ সকল চরিত্রে নিজেকে দেখতে পায়। তাই আমরা অনুভব করছি যে তার চিকিৎসা দরকার।”

তিনি বলেন, “উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যদি সিঙ্গাপুরে পাঠানো লাগে, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।”

ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, “এরা একের পর এক আমাদের উপর হামলা করছে। শিক্ষক-অফিসারদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

“একটি ব্যানার ছিড়ে ফেলে জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করা যাবে না। আমরা দ্রুত তার এই ধৃষ্টতার বিচার দাবি করছি।”