দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে পঞ্চগড়
শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ।
শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তর অঞ্চলের আট জেলার মধ্যে হিমালয়ের অতি নিকটবর্তী হওয়ায় পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয়। প্রতিবছরই এমন আবহাওয়া বিরাজ করে। আর যখনই হিমেল হাওয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় তখনই তাপমাত্রার পারদ হ্রাস পেতে শুরু করে।
তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সে হিসাবে এ এলাকার ওপর দিয়ে কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পুরো জেলা ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। সেই সাথে উত্তরের হিম শীতল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেকেই।
জেলা সদরের মিরগর এলাকায় পাথর ভাঙা শ্রমিক মর্জিনা বেগম বলেন, এই কনকনে শীতের মধ্যে কাজ করা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের খোঁজ-খবরও নেয় না কেউ, এই সময়টাতে যদি শীতবস্ত্র দিয়ে কেউ সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের দিনমজুর হোসেন আলী ও আলাউদ্দিন বলেন, তিন-চারদিন ধরে কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতটা মনে হচ্ছে অনেক বেড়েছে। শীতের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। গরম কাপড় নাই। এখনও সরকারি বা বেসরকারি কোনো কম্বল পাই নাই। খুব কষ্টে আছি।
তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা এলাকার পাথর শ্রমিক জুয়েলসহ কয়েকজন বলেন, তিন-চার দিন ধরে ভোর থেকে ঘন কুয়াশা। কুয়াশার সঙ্গে ঝরঝর করে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ছে আর ঠান্ডা বাতাস বইছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীতে পাথর তুলতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে।
“কিন্তু কি করবো, পরিবারের কথা চিন্তা করেই পাথর তুলতে হচ্ছে। দিনশেষে জ্বর-সর্দির মতো রোগে ভুগতে হচ্ছে আমাদের।”
এদিকে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্তের পরিমাণ। প্রতিদিনই জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, শনিবার পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার একই সময়ে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী সপ্তাহে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আগের নিউজ-
