Published : 19 Aug 2024, 09:04 PM
টাঙ্গাইলে গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটুসহ ৫৬ জনের নামে হত্যা মামলা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিজয় মিছিলে গুলিতে মারুফ মিয়া নিহত হয়।
মারুফের মা মোছা. মোরশেদা বাদী হয়ে রোববার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন।
মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিহত ১৪ বছর বয়সী মারুফ টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে। সে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অন্য আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, সহসভাপতি খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সাইফুজ্জামান সোহেল, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক, দপ্তর সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, উপ-দপ্তর সম্পাদক আনন্দ মোহন দেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মামুনুর রশিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব, কাউন্সিলর তানভীর ফেরদৌস নোমান, কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমান মোরশেদ, কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান মামুন, কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিন, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদশা, কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান প্রিন্স, ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, আতিকুর রহমান রনি (কোয়ার্টার রনি), সোহেল এবং সোহেল।
মামলায় বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা দাবির তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ উপলক্ষে ঘটনার দিন বিকালে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল বের হলে, সেখানে অংশ নেয় মারুফ মিয়া। সন্ধ্যার দিকে বিজয় মিছিলটি শহরের মেইন রোড এলাকায় পৌঁছলে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মারুফ শহরের সিটি ব্যাংকের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিলে তাকে শটগান দিয়ে গুলি করা হয়।
পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।