১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বালুমহালে অভিযানে গিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন ইউএনও, ভিডিও ভাইরাল

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 11:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বালুর ঘাটের ইজারাদার ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। 

ভিডিওতে ইউএনও এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পাশাপাশি লাঠি দিয়েও আঘাত করতে দেখা গেছে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখার কথা জানিয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। এক পর্যায়ে ইউএনও তাকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।

এরপর র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

অভিযানের সময় ইজারাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।

ইজারাদারপক্ষের দাবি, সারোয়ারকে পরে র‍্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজন ও ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদের দাবি, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তারা বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। 

অভিযানের সময় কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় চাওয়ার পরই তাঁর কর্মী সারোয়ারকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তাকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে একাধিকবার ফোনে করা হলেও তিনি ধরেননি।