Published : 30 Jul 2024, 08:14 PM
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দেড়শ বছরের পুরনো সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে; এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল।
পরে আটকে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সেতু দিয়ে হালকা যান চলাচল শুরু হয় বলে জানান কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম।
মেয়াদ উত্তীর্ণ এ সেতু দিয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক সেতুতে ওঠার সময় পাটাতন ভেঙে আটকে যায় বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝুঁকি জেনেও দীর্ঘ দিনের পুরানো এ সেতু দিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে আসছিল। সকালে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক সোনাহাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে ওঠে। এ সময় সেতুর স্টিলের অংশে পাটাতন ভেঙে ট্রাকটি আটকে যায়।
এতে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম দিকে শতশত ট্রাকসহ ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহনের লম্বা সারি দেখা যায়। সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হন।
১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সেই সময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেল সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা, কেদার, মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়। এ ছাড়া সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে ভুটানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এ সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রিটিশ আমলে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয় ১০০ বছর। সেই মতে সোনাহাট সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম।
২০১৮ সালে ঝুঁকিপূর্ণ রেল সেতুর পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সোনাহাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষের পর কয়েক দফা মেয়াদ এবং বরাদ্দ বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, পাথর বোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় সেতুটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এ ছাড়া সরু রেল সেতু দিয়ে যখন একটি ট্রাক যায় তখন পাশ দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন যাওয়ার জায়গা থাকে না। এতে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সকাল ১০টার দিকে পাটাতন ভেঙে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক আটকে যায়। পরে সড়ক বিভাগের তৎপরতায় বেলা ৩টার দিকে ট্রাকটি সরানো হয়। এখন হালকা যানবাহন চলাচল করছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতি মাসে সড়ক বিভাগ সেতুটি মেরামত করে থাকে।
তবে এ সেতু দিয়ে যদি পণ্যবাহী গাড়ি না চলে, তাহলে স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, মেরামতের পর সেতুটি দিয়ে হালকা গাড়ি পারাপার হচ্ছে। এখনো মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।