Published : 30 Apr 2026, 07:56 PM
শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক চিকিৎসক দম্পতিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে মুখ্য বিচারিক হাকিম চতুর্থ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসক দম্পতির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার জানান।
গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন- স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক কে এম আল আব্দুল্লাহ নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা।
বৃহস্পতিবার গৃহকর্মী শিশুর বাবা মামলা করার পর পরই দুপুরে পুলিশ চিকিৎসক দম্পত্তিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সরাইল উপজেলার ১০ বছরের শিশুটি নয় মাস আগে পৌর এলাকার উত্তর মৌড়াইলের দম্পতি মো. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় কাজ করতে আসে। এ সময় ওই দম্পত্তির এক বছরের এক শিশু সন্তান ছিল এবং কিমিয়া সাদাত তোফা গর্ভবতী ছিলেন। বর্তমানে তারা দুই সন্তানের জনক-জননী।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিন মাস ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সন্তানকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে জানানো হয়, আয়েশা চুরি করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাকে খোঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পত্তির বাড়ির পাশ থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করা হত। তার সারা শরীরে অনেক ক্ষতচিহ্ন। অথচ তাকে এখন চোর বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মেয়েকে নির্যাতনকারী চিকিৎসক দম্পতির বিচার দাবি করেন।
সারা শরীরে দাগ নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহকর্মী শিশুটি বলে, “এক বেলার বদলে তিন বেলা গর মুছতে কইতো আমারে। না মুছলে মারতো। বাতটা (ভাত) ‘কেটা’ (নরম) অইলেঅই আমারে মারতো। গরম তেল দিয়া ছিডা মারতো। আমারে লাঠি দিয়া মারতো।”
অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মেয়েটি আমার ঘরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নয়, সন্তানদের খেলার সাথী হিসেবে থাকত। আমার স্ত্রী যখন গর্ভবতী তখন তাকে আনা হয়। দুই বছরের শিশু সন্তানের সঙ্গে সে খেলত।”
নোমান অভিযোগ করেন, “সম্প্রতি তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যান। তবে তার স্ত্রী-সন্তানরা বাসায় ছিল। ২২ এপ্রিল আয়েশা ঘরের আলমিরা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে চলে আসেন।
“এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েটির নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে আসার জন্য। ঠিক এরপরই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই চিকিৎসক দম্পত্তি গৃহকর্মী শিশুর বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ দেননি।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, ওই দম্পত্তি জামিন পাননি। শিশু সন্তানসহ তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।