২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঢল-বৃষ্টি: সিলেটের চার উপজেলায় পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষ

নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ঢল-বৃষ্টি: সিলেটের চার উপজেলায় পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষ
ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jun 2025, 07:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:51 PM

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিলেটের চারটি উপজেলায় ১১ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

মঙ্গলবার বিকালে সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বুলবুল বলেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ এবং ওসমানীনগর উপজেলায় ১০ হাজার ৯৩৬ লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জের একটি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৬২৫ জন, জকিগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৫ হাজার ২২০ ও ওসমানীনগর উপজেলায় ৯১ জন। 

তিনি বলেন, এর মধ্যে ১৮৫ জন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বন্যাকবলিত উপজেলায় শুকনো খাবার, চাল, শিশু খাদ্য এবং গো-খাদ্য বাবদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবারও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে। ১২টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলায় মোট ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খেলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, “কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে উপজেলার কুড়ারবাজার, শেওলা ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পানি রয়েছে। উপজেলার রাস্তাঘাটে হাঁটু পানি থাকলেও যান চলাচল বন্ধ হয়নি। তিন ইউনিয়নে ৩৫০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ আছে।”  

কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, “সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। কোনো ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেনি, আমি সরেজমিনে দেখেছি। তবে কিছু রাস্তাঘাটে পানি রয়েছে। সোমবার থেকে কানাইঘাটে পানি রয়েছে। আমাদের ৩৬টা আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কেউ উঠেনি।” 

ঢল ও বৃষ্টির পানির তোড়ে ভেঙেছে সড়ক। 

ঢল ও বৃষ্টির পানির তোড়ে ভেঙেছে সড়ক।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, “উপজেলায় কিছু রাস্তাঘাটে পানি রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সাদিপুর এলাকায় কিছু পরিবার পানিবন্দি আছে। তবে উপজেলার কোথাও বেশি পানি হয়নি।”   

গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমার ইউনিয়নে প্রচুর পানি রয়েছে। ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে আছেন। এর মধ্যে ১, ৩, ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পানির পরিমাণ বেশি। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘর-বাড়ির ভেতর হাঁটু পানি জমে আছে।”    

পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জানিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদ বলেন, “সেখানে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।” 

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে বুধবারীবাজার ইউনিয়নেই পানি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চারটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ইতোমধ্যে ১৪৮ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০ মেট্রিক টন চাল, শিশুখাদ্য বাবদ ১ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য বাবদ আরও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।” 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, “সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।” 

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “উজানের থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯৬ সেন্টিমিটার এবং কানাইঘাটে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মূলত ভারতের আসাম এবং মেঘালয় রাজ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত আর বন্যা হচ্ছে। ওই দিকের পানিটা সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে নামছে। এজন্য আমাদের স্থানীয়ভাবে বন্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে পানিটা নেমে যাবে। যেহেতু আমাদের সিলেটেও বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে, তাই দ্রুতই পানি নেমে যাবে।”  

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৮২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাতে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”