নারায়ণগঞ্জে পুলিশের মামলায় বিএনপির ৩০০ নেতা-কর্মী আসামি

ফতুল্লা মডেল থানায় সোমবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 06:38 PM
Updated : 22 Nov 2022, 06:38 PM

নারায়ণগঞ্জে নাশকতার অভিযোগে পুলিশের এক মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৮৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এসআই শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে ওসি রিজাউল হক দিপু জানান। 

বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা এই মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হননি বলে জানান ওসি।

আসামিদের মধ্যে বিএনপির মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক মনির খান, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু, জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি পারভেজ মল্লিক, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লিখন খান, লিংরাজ খান, আতা-ই-রাব্বি, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রয়েছেন। 

মামলার এজাহারে বাদী এসআই শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, গত ২০ নভেম্বর হত্যা মামলার হাজিরার জন্য জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে জেলা আদালতে আনা হয়। 

দুপুর ২টার দিকে জাকির খানের মুক্তির দাবিতে জেলা আদালতের বিপরীত পাশে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নেন বিএনপির প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মী। তারা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, যানবাহন, রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেন। 

তাদের প্রত্যেকের হাতে লোহার রড, ককটেল, লাঠি-সোটা ইটপাটকেল ছিল। তারা সড়কে টায়ার পুড়িয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গাড়ির টায়ারে আগুন দিয়ে ও চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং চলন্ত গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ির কাচ ভাঙচুর ও গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে। 

পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে বলে মামলায় বলা হয়। 

এই ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে চারটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, বিশটি বাঁশের লাঠি, দশটি লোহার রড, একটি আগুনে পোড়া টায়ার, কয়েক টুকরা ভাঙা কাচ জব্দ করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করেন এসআই শাহাদাত হোসেন। 

এদিকে পুলিশের করা এই মামলা ‘সাজানো’ দাবি করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে জনগণের সম্পৃক্ততা দেখে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। এই কারণে প্রশাসনকে ব্যবহার করে তারা গায়েবি মামলা দিয়ে বিরোধীদলকে দমন করার চেষ্টা করছে। 

এইসব সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। 

প্রায় দুই দশক পলাতক থাকার পর গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে চারটি হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি জাকির খান র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে আসা জাকির হোসেন এক সময় শহরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হন। 

গত ২০ নভেম্বর ব্যবসায়ী সাব্বির আলম হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের সময় জাকির খানকে জেলা আদালতে আনা হয়। এই সময় আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন তার সমর্থকরা। তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে শ্লোগানও দেন তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক