Published : 26 Aug 2026, 06:16 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক নারীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেছেন এক পুলিশ সদস্য।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার সেতুতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন।
২৪ বছর বয়সি ওই নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বিবাহিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে ওই নারী সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ঘুরতে যাওয়া পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসান নদীতে ঝাঁপ দেন। তিনি সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করে একটি নৌকার সহায়তায় নদীর পাড়ে তোলেন।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে তার ব্যাচমেট কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে রাতে ওই সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, খবর পেয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান এবং চিকিৎসার খোঁজ নেন।
ওই নারীর মা বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার এক গ্রামে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে মেয়েটি নারায়ণগঞ্জে থাকত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান মেয়েটি।
মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাত ১২টায় মেয়েটিকে তার মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়। পারিবারিক কলহ কিংবা স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।