Published : 19 Dec 2025, 04:28 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের মডেল মসজিদ থেকে মিছিলটি বের হয় বলে জানান এনসিপির যশোর জেলা প্রধান সমন্বয়ক নুরুজ্জামান।
মিছিলকারীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে?’, ‘যে ভারত খুনি পালে, সেই ভারত ভেঙে দাও’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আপোস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ এবং ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ সহ নানা স্লোগান দেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরাতন কসবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সমাবেশে এনসিপির যশোর জেলা প্রধান সমন্বয়ক নুরুজ্জামান বলেন, “হাদীর মতো একজন দেশপ্রেমিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা ন্যাক্কারজনক অপরাধ। তিনি ছিলেন দেশের অমূল্য সম্পদ।”
তিনি কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।
নুরুজ্জামান আরও বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনায় যারা বাধা সৃষ্টি করবে, সেই ধরনের শক্তিকে আমরা ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আজ যশোরসহ সারাদেশের ছাত্রজনতা ফুঁসে উঠেছে। এই হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে কোনো রাজনীতিবিদই নিরাপদে থাকতে পারবেন না।”
সমাবেশ শেষে শহীদ মিনারে শরীফ ওসমান হাদির জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন এনসিপির ইব্রাহিম খলিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) সাকিব শাহরিয়ার, যুগ্ম সমন্বয়ক সাজিদ সরোয়ার, যুব শক্তির এমদাদ হোসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মারুফ সুকর্ণ, সামিউল ইসলাম প্রমুখ।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই তার মৃত্যু হয়।