১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুতায়িত ঘরে পড়ে ছিল মা-মেয়ের অর্ধগলিত লাশ

“আমরা ঘরের দরজা খুলতে গেলে কারেন্টের শক খাই। এরপর টেস্টার দিয়ে দেখা যায় পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে আছে।”

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Sep 2025, 12:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকা ঘর থেকে মা-মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামের নিজ বাড়ির ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ভূল্লী থানার এসআই দিন মোহাম্মদ।

মৃতরা হলেন- সুমিলা রানী (৪০) ও তার মেয়ে শাপলা (২০)। সুমিলা ওই গ্রামের জগদীশ রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী। 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শাপলা একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন। গ্রামের কিছুটা নির্জন এলাকায় ওই বাড়িতে জগদীশ রায় থাকতেন না। প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে সুমিলা রানী দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়া যাচ্ছিল না।

এসআই দিন মোহাম্মদ বলেন, সোমবার বিকালে এনজিও কর্মী কিস্তির টাকা নিতে ওই বাড়িতে যান। তিনি পঁচা দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীদের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। 

“ঘরের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল। তা ভাঙতে গেলে দেখা যায় পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে আছে। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ঘরের দরজা ভেঙে দুজনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ”

স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আমরা ঘরের দরজা খুলতে গেলে কারেন্টের শক খাই। এরপর টেস্টার দিয়ে দেখা যায় পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে আছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসের লোক এসে সংযোগ বন্ধ করে।” 

এসআই দিন মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকদিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং এ ঘটনায় আপাতত থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।