দৌলতদিয়ায় ওরস ফেরত গাড়ির চাপে দীর্ঘ জট

“দুইটা থেকে জ‍্যামে বসে আছি; শুনিলাম ফেরিতে উঠতে নাকি আরও দুই ঘণ্টা বসে থাকতে হবে।”

রাজবাড়ী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 12:48 PM
Updated : 20 Feb 2024, 12:48 PM

ফরিদপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে তিন দিনের ওরস মাহফিল শেষ হওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১টা থেকে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়াতে শুরু করে বলে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব‍্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান।

তিনি বলেন, “ফরিদপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ৩ দিনের ওরস শেষ হওয়ায় ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলে; এর মধ্যে ৮টি দিয়ে গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লে ফেরির সংখ‍্যাও বাড়ানো হবে।”

ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কপিল ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ছোট বড় মিলিয়ে শতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে; তার মধ্যে যাত্রীবাহী ওরশের গাড়িই বেশি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের লাইনও লম্বা হতে থাকে।

প্রতিটি গাড়িকে ফেরি পেতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। 

বেলা ৩টার দিকে কথা হয় ঢাকাগামী ‘রাবেয়া পরিবহনের’ যাত্রী আসিফ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, “দুইটা থেকে জ‍্যামে বসে আছি; শুনলাম ফেরিতে উঠতে নাকি আরও দুই ঘণ্টা বসে থাকতে হবে। ওরশের গাড়ির চাপের কারণেই এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে।”

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভোগান্তি আর যাবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের যাত্রী ইয়াছিন আরাফাত। তিনি বলেন, “সারা বছরই আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এখানে সেতু না হলে এই ভোগান্তি থাকবেই। আমার সন্ধ্যা ৭টায় ডাক্তার দেখানোর কথা; সময় মত পৌঁছাতে না পারলে আজ আর হবে না।” 

ওরশ ফেরত যাত্রী কাইয়ুম খান বলেন, “মানিকগঞ্জ থেকে ফরিদপুর ওরশে গিয়ে ছিলাম। বাড়ি ফিরতে গিয়ে ফেরিঘাটে এসে আটকে পড়েছি। কখন ফেরিতে উঠব, বলতে পারছি না। আমার মত অনেকেই আটকে আছে।” 

দৌলতদিয়া ঘাটে এক ঘণ্টার বেশি আটকে ছিলেন রুবাইয়া খাতুন। বেলা ৩টা নাগাদ তার মানিকগঞ্জ ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তখনও ঘাটই ছাড়তে পারে নাই। 

ভোগান্তির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তা তো হচ্ছেই। বাচ্চাটা কান্না করছে, আর বসে থাকতে চাচ্ছে না।” 

ঘাট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত এটিএসআই মো. মাহাবুর রহমান জানান, বেলা ১টা-দেড়টা থেকে হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়; মুহূর্তেই ঘাট এলাকায় গাড়ির লাইন তৈরি হয়।  

তিনি বলেন, “মূলত ওরশ ফেরত গাড়ির চাপ ও ফেরি কম চলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা গাড়ির সিরিয়াল ঠিক রাখছি, যেন কেউ ভেঙে আগে না যায়।”

ভোগান্তি কমাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফেরি বাড়ানোর জন্য বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, এটা না হলে যানজটের সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়বে।”