Published : 24 Jun 2026, 12:50 PM
সব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, একাডেমিক কার্যক্রমে বিলম্ব এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের কারণেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতির কোটা পূরণ করতে পারেননি।
বুধবার সকালে মাস্টার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বিভাগে তালা দেন তারা। বেলা ১২টায় এই প্রতিবেদন পাঠানো পর্যন্ত সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলছিল।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মোট শিক্ষার্থী ৪৫ জন, তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পাননি ১১ শিক্ষার্থী। ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতির কোটা পূরণ করতে না পারায় তাদের ‘ডিসকলেজিয়েট’ করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনাকালীন শিক্ষাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না দিয়ে বিভাগটি নানা সময়ে ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা করেছে। এছাড়াও মাস্টার্সে উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন কোর্স শিক্ষকরা।
তাদের অভিযোগ, একটি ক্লাসের বিপরীতে একটি উপস্থিতি দেওয়ার কথা থাকলেও তিন-চারটি করে উপস্থিতি দেওয়া হয়েছে। এভাবে একদিন ক্লাসে উপস্থিত না থাকা শিক্ষার্থীরাও একসঙ্গে কয়েকটি উপস্থিতি হারিয়ে ফেলেছেন।
শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, "আমাদের অনার্স শুরু হয় ২০২০ সালে, কিন্তু শেষ হতে প্রায় ছয় বছর লেগেছে। এরপর মাস্টার্সও ছয় মাস দেরিতে শুরু করা হয়।
“কারিকুলাম প্রস্তুত না হওয়ার কথা বলে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্লাস শুরু হলেও একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করতেই প্রায় নয় মাস সময় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস ও উপস্থিতি নেওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি করেছেন। ফলে কিছু শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি পূরণ করতে পারেনি।
“আমরা বিভাগীয় শিক্ষক ও চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। তাই সবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে অফিসকক্ষে তালা দিয়েছি।"
আরেক শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি বলেন, “ আমাদের অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু শেষ হয়েছে ২০২৬ সালে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি ক্লাসে একাধিকবার উপস্থিতি ধরা হচ্ছে, ফলে কিছু শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় উপস্থিতি পূরণ করতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সমাধান চাই।”
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধাপক রবিউল আলম।
তিনি বলেন, “কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং বিভাগও সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে।
“আজ (বুধবার) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা দাবি করেছে, যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না তাদের সুযোগ না দিলে অন্যরাও পরীক্ষা দেবে না। ”
এই শিক্ষক আরও বলেন, “আমি তাদের জানিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”