Published : 09 Sep 2026, 07:44 PM
দ্বীপ জেলা ভোলার উন্নয়নে এবং সেখানকার প্রাকৃতিক গ্যাসের সদ্ব্যবহারে সরকারের একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “ভোলার যে প্রাকৃতিক সম্পদ (গ্যাস) আছে, তা যেমন আমরা দেশের মানুষের জন্য ব্যবহার করতে চাই, একইভাবে ভোলার মানুষও যাতে এই সম্পদ থেকে উপকৃত হয়, সেটাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
বুধবার সংসদ অধিবেশনে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার বাড়ি ভোলায়। তিনি ভোলা-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় স্পিকার, অবশ্যই এ প্রশ্নের উত্তরটি জানার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আপনিও আগ্রহী।”
ভোলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “ভোলা যেহেতু একটি দ্বীপ জেলা, এই দ্বীপ জেলাকে আমরা আমাদের মেইন ল্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাই এবং সেজন্যই ব্রিজ স্থাপন এবং ব্রিজ স্থাপনের মাধ্যমে রোড কমিউনিকেশন মাধ্যমে আমরা এটি করতে চাই।
দ্বিতীয়ত ভোলায় আমরা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চাই ৫০০ মেগাওয়াটের। একই সাথে আমরা একটি ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানা স্থাপন করতে চাই।”
বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় এ পর্যন্ত তিনটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা–এই তিনটি ক্ষেত্রে মোট গ্যাসের মজুদ ২ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুটের (টিসিএফ) বেশি।
তবে ভোলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা হওয়ায় এবং চারদিকে প্রমত্তা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কারিগরি দিক থেকে বেশ জটিল।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এতদিন এই গ্যাস প্রধানত স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক সংযোগেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। বর্তমানে ভোলায় ২২৫ মেগাওয়াট ও ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে।
তবে বিকল্প উপায়ে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিলিন্ডারের মাধ্যমে সিএনজি আকারে ভোলার গ্যাস বিশেষ বার্জে করে ঢাকায় এনে জ্বালানি সংকটে থাকা বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
ভোলায় শিল্পায়নের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাতে সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেজন্য উৎসাহিত করছে সরকার।
“এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আরও কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভোলার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই আমরা।”