Published : 13 Aug 2026, 09:30 PM
নোয়াখালীতে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে সাবেক সেনা ও নৌ সদস্য আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি চারটি পোশাক, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়।
বুধবার মধ্যরাতে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনির ব্রাইট হাউজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- লক্ষ্মীপুরের শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), রুবেল হোসেন (২৯), নৌবাহিনী অবসরপ্রাপ্ত সদস্য রাজশাহীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (২৮), সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বগুড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরেল চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর জেলার মো. নাদির (২৯) এবং ঢাকার মো. শরীফ মিয়া (৫৫)।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে মো. আতাউর রহমান (৬২) অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে বাসায় ঢুকে তার মেয়েকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও শাহাদাতকে সিআইডির জ্যাকেট পরা এবং হাতে ওয়াকিটকি থাকা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে শুভ চৌধুরী, রুবেল হোসেন ও নাদিরকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে বাসার সামনে থাকা একটি এক্স-নোহা গাড়ি থেকে শরীফ মিয়াকেও আটক করা হয়। ওই গাড়ি থেকেও পুলিশের ব্যবহৃত জ্যাকেটের আদলে তৈরি আরও একটি খাকি রঙের পোশাক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, আতাউর রহমানের মেয়ের সঙ্গে শুভ চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। ২১ জানুয়ারি তাদের বিচ্ছেদ হয়। এ ঘটনার জেরে তারা ওই নারীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাদের আটক করেন।
ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বিকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।