১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে ছোট ভাইয়ের জয়

দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাজনীতির মাঠেও বড় ভাই আমার গুরুজন। তাকে সাথে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাই।”

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে ছোট ভাইয়ের জয়
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন আজিজুর রহমান ও তার ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান হয়েছেন দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2026, 04:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:56 PM

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনে আলোচিত দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন ছোট ভাই ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন তার বড় ভাই ও বিএনপির  প্রার্থী আজিজুর রহমান। 

বিজয়ী প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট এবং মো. আজিজুর রহমান ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়। বিকালেই গণনা শুরু হয়ে রাত ৩টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জেলার সব আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “জনগণ উন্নয়ন ও নীতির পক্ষে ভোট দিয়ে তাদের রায় দিয়েছেন। এখন আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে সেবা করতে চাই। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।”

তিনি বলেন, “আমার বড় ভাই রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ। একসময় আমি তার হাত ধরেই রাজনীতি শুরু করেছিলাম। বড় ভাই ও আমার দলের এবং আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থক সবাইকে সাথে নিয়েই কুড়িগ্রাম-৪ আসনের উন্নয়ন কাজ করতে চাই।”

পরে শুক্রবার সকালে তিনি আরও বলেন, “রাজনীতির মাঠেও বড় ভাই আমার গুরুজন। তাকে সাথে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাই। এই জয়-পরাজয় যেন আমাদের পারিবারিক বিরোধ তৈরি না করে সেজন্য দোয়া চাই।”

তিনি এই আসনের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “দলমত ধর্ম নির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ করা হবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না। সবাইকে সাথে নিয়েই উন্নয়ন করা হবে।”

“রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর সেতু নির্মাণ আমার স্বপ্নের পরিকল্পনা। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করব। সবার সহযোগিতা চাই। ”

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। পোস্টাল ব্যালটে বৈধ ভোট পড়েছে ২ হাজার ৮৪৫টি। এ আসনে ভোটের হার ৬২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। 

ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “জনগণের রায়কে আমি সম্মান করি। তবে এমন ফলাফল আমার প্রত্যাশিত ছিল না। ছোট ভাই বিজয়ী হয়েছে তার জন্য দোয়া রইলো।”