১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চর দখল-নিয়ন্ত্রণের বলি পাঁচজন

সামছুদ্দিন ও আলাউদ্দিন ডাকাত বাহিনীর মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

আবু নাছের মঞ্জু. নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Dec 2025, 08:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:23 PM

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চরের জমির দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুটি ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর’ মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জনের মত আহত হয়েছেন।   

মঙ্গলবার ভোরের দিকে উপজেলার জাগলার চরে সামছুদ্দিন ও আলাউদ্দিন ডাকাত বাহিনীর মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান।

নিহতরা হলেন- উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সামছুদ্দিন ডাকাত ওরফে ‘কোপা সামছু’ বাহিনীর প্রধান সামছুদ্দিন, তার ছেলে মোবারক হোসেন, একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মা ডাকাত, আলাউদ্দিন মাঝি এবং সুখচর ইউনিয়নের রামচরণ এলাকার আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাগলার চরে কয়েকশ ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। চরের অর্ধেক জমি খাস এবং অর্ধেক ব্যক্তি মালিকানা বা বয়ার সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে দুজন জনপ্রতিনিধি ছত্রছায়ায় থেকে সামছুদ্দিন এসব জমি বিক্রি করছিলেন। ভূমিহীনদের কাছে প্রতি একর জমি ২২ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর একটি অংশ যায় দুই জনপ্রতিনিধির কাছে। 

কিছু দিন ধরে জমি বিক্রির টাকা ওই দুই জনপ্রতিনিধিকে দিচ্ছিলেন না সামছুদ্দিন। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।  

মঙ্গলবার ভোরে আলাউদ্দিন বাহিনীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জাগলার চরের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিতে যায়। তখন দুই বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। গোলাগুলিতে উভয় বাহিনীর প্রধানসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় চরে পড়ে গেলে কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে বিকালে হাতিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল অনেক দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছতে বিলম্ব হয়েছে। 

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে আলাউদ্দিনের মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সামছুদ্দিনসহ বাকি চারজনের মরদেহ হাতিয়া থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে কোস্ট গার্ড নদীতে এবং পুলিশ চরে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।