ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্ররা সেদিন গান বন্ধ করতে যায়নি, শব্দ কমাতে বলেছিল: পাটওয়ারী
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী শনিবার বিকালে বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠান চলাকালে মাদ্রাসা ছাত্ররা সেখানে গান-বাজনা বন্ধ করতে যায়নি; তারা পরদিন পরীক্ষা থাকায় শব্দ কমাতে বলেছিল বলে বলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় (বড় মাদ্রাসা) কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নেতাদের কথার বরাতে তিনি এই দাবি করেন।
এ সময় এনসিপি নেতা বলেন, মাদ্রাসা ছাত্ররা অভিযোগ করেছেন, সেদিন রাতে পুলিশের মারধরে তাদের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। এর জেরে শুক্রবার মধ্যরাতে তারা শহরে বিক্ষোভ করেন। মাদ্রাসা ছাত্ররা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সমন্বয় সভাস্থলে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।
এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে জেলা প্রশাসন দুপক্ষকেই শিল্পকলা একডেমিতে সভা না করতে দেওয়ার কথা জানায়।
এই অবস্থার মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার বিকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান।
সেখানে তিনি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের পাশাপাশি জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্রদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পরে বিষয়টি মীমাংসা করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতারাও ছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১৮ অগাস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের হামলা-ভাঙচুরের প্রসঙ্গে বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্ররা রাতে পরের দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেছিল। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর অনুষ্ঠানে শব্দ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার কথা বলে শব্দ কমিয়ে দিতে বলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এতে আমাদের ভালো হয়।
“এরপর ছাত্রদের বেধড়ক মারধর ও মাথায় আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ছাত্রদের যে আঘাত করা হয়েছে সেটার বিচার করা হয়নি। পরবর্তীতে মিডিয়া প্রকাশ করেছে যে, ছাত্ররা গান-বাজনা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা গান-বাজনা বন্ধ করতে যায়নি। তারা বলেছে সাউন্ডটা কমানোর জন্য। মিডিয়ার ফ্রেমিংটা পুরো বাংলাদেশে চলে গেছে।”
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।। সালাহউদ্দিন ভাই, বরাবরই এই কাজটা করে থাকেন। সালাহউদ্দিন ভাই যদি মূল ঘটনা জানতেন, মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশে ওনার দাঁড়ানো উচিত ছিল।”
আরও পড়ুন:
