Published : 19 Aug 2026, 03:25 PM
উচ্চস্বরে গান চলাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ছাত্রদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ-শিক্ষার্থীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।
এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল। পরে দুই পক্ষের আলোচনা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজনে সাংঙ্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।
অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান চলায় তা কমাতে বলে পাশের দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে পুলিশ ও মাদরাসা ছাত্রদের মাঝে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।
পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভিতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এসময় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া শুরুতে ছাত্রদের হামলায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয় বলে দাবি পুলিশের।
মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বুধবার তাদের মাদরাসায় পরীক্ষা রয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমে তারা কয়েকজন গিয়ে উচ্চস্বর কমানোর জন্য বললে উচ্চস্বরে কমানো হলেও পরবর্তীতে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশের সদস্যরা।
এ ঘটনায় তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনার পরপরই দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানসহ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।
বৈঠকে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মাদরাসা ছাত্ররা পুলিশ লাইনে আর কখনো উচ্চস্বরে গান না বাজানো, ছাত্রদের উপর হামলাকারিদের বিচার দাবি করেন।
পুলিশ সুপারও বলেন, “কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করে থাকলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”