Published : 01 Sep 2026, 10:18 PM
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে লোহার পাইপ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠেছে।
রোববার রাতে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের একটি মুড়ির কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে বলে কিশোরটির পরিবারের অভিযোগ।
আহত কিশোর ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে।
কিশোরের পরিবারের অভিযোগ, মুড়ির কারখানার মালিক ও সাবেক সেনাসদস্য ইশারত মোল্যা (৫৫) এবং তার ছেলে মুন্না মোল্যা (২২) কিশোরকে নির্যাতন করেন। রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মারধরের পর তাকে কারখানার নিচে ফেলে রাখা হয়।
কিশোরের পরিবারের সদস্যরা বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কারখানার নিচ থেকে গোঙানির শব্দ শুনে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই কিশোর ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, মারধরের কারণে তার শরীরের পেছন অংশের কোমরের নিচে পুরো নিতম্ব কালচে হয়ে আছে। সে ঠিকমত বসতে পারছে না।
কিশোরের ভাষ্য, রোববার রাত ৯টার দিকে ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় মুন্না তাকে ডেকে কারখানার দ্বিতীয় তলার ছাদে নিয়ে যান। সেখানে ইশারত মোল্যাও ছিলেন। পরে রশি দিয়ে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে লোহার রড চুরির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
“চুরির অভিযোগ অস্বীকার করায় আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। চিৎকার করলে কাপড় দিয়ে মুখও বেঁধে দেওয়া হয়।”
কিশোরের দাদি বলেন, “ওকে আমি কোলেপিঠে বড় করেছি। কোনো দিন কারও কিছু চুরি করতে দেখিনি। রাতে বাড়িতে না ফেরায় আমরা খুঁজতে বের হই। পরে কারখানার নিচে তাকে আহত অবস্থায় পাই।”
তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কিশোরের বাবার অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইশারত মোল্যা তাকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে যদি চুরি করেও থাকে, তাকে এভাবে মারার অধিকার কারও নেই। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইশারত মোল্যা মারধরের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, ওই কিশোর এলাকায় বিভিন্ন মালামাল চুরি করে। তার ঘরের কাজের রডও সে চুরি করেছে বলে তার অভিযোগ। সেদিন তাকে কারখানার ছাদে হাতেনাতে ধরার পর তার ছেলে ও দুই ভাতিজা তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছে।
ইশারত মোল্যা বলেন, “মানবতা দেখিয়ে পুলিশে দিইনি। এখন মনে হচ্ছে, পুলিশে দেওয়াই ভালো ছিল।”
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, কিশোর নির্যাতনের বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এবং পরিবার অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।