Published : 28 Aug 2025, 03:36 PM
বরগুনার পাথরঘাটায় প্রমত্তা বিষখালী নদীর তীর থেকে দেদারসে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ইটভাটার বিরুদ্ধে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচিটকি এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, একমাস ধরে ভেকু দিয়ে রাতে নদীর তীরের মাটি কেটে নিচ্ছেন দুইটি ইটভাটার লোকজন। বাধা দিলে মামলা ও মারধরের হুমকিও দিচ্ছে তারা।
অন্যদিকে ইটভাটার মালিকদের দাবি, তারা কিনে নেওয়া জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করছেন।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, বাইনচটকির বিষখালী নদীর তীরের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। নদী তীর ঘেষে গড়ে ওঠা আরএসবি ও আল মামুন এন্টারপ্রাইজ নামের দুইটি ইটভাটার জন্য এসব মাটি কাটা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বাইনচটকি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “নদীর তীর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দূরত্ব খুব কাছে। স্থানটি ভাঙন কবলিত, তার উপর ইটভাটার মালিকরা যেভাবে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন, ফলে নদীর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাবে।

দুই-এক বছরে মধ্যেই বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “নদীর তীরের মাটি কেটে কিসলু মিয়া তার ইটভাটায় নিচ্ছেন। কয়েকদিন পরে যখন ভাঙন শুরু হবে তখন আমাদের মত গরিব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে যাবে। তাই এই মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
একই গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন বলেন, “আমরা যদি দিনের বেলা তাদের মাটি নিতে মানা করি, তাহলে তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। তবে তারা দিনের বেলায় কিছু করে না রাতেই বেশি মাটি কাটে।”
হরিদ্রা এলাকার কবির মিয়া বলেন, “মোরা গরিব মানুষ মোরা যামু কই। আপনারা আমাগো একটু বাঁচান। মোগো রাস্তার উপরে সব ঘর, গাং কাটলেই তো মোগো ঘর বাড়ি সব শ্যাষ। এই ঘরটুকু গেলে আমাগো রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হইবে।”
এই অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স আল মামুন এন্টারপ্রাইজ ইটভাটার ম্যানেজার মো. লিটন মোবাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নদীর যে অংশ দিয়ে মাটি কাটছি তা আমরা কিনে নিয়েছি। ওখানে নদীর বা সরকারের কোনো জমি নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আমরা জমি কিনে নিয়েছি।”
একই দাবি আরএসবি ইটভাটার ম্যানেজার মনিরেরও। তিনি বলেন, “আমরা যেখান থেকে মাটি কাটি সেটা আমাদের কেনা জায়গা। আমরা জমি কিনে মাটি কাটি। আমরা আর তীরের মাটি কাটি এরকম কোনো প্রমাণ নাই।”

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৬৮টির মতো ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ইটভাটারই উৎপাদনের অনুমতি পত্র নেই।
বরগুনা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আরএসবি ইটভাটার মালিক মো. আবদুল রাজ্জাক (কিসলু) বলেন, “নদীর পাড়ের যে অংশ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে সেটি রেকর্ডীয় সম্পত্তি। নদী ভাঙনের ফলে অনেক জমি ভেঙে নদীতে চলে যাওয়ায় অনেকেই ভাবছে আমি নদীর চর থেকে মাটি কাটছি আসলে সেটি নয়। বিষয়টি নিয়ে আপনারা জমির বিএস ও দলিল দেখলেই বুঝবেন, এটি রেকর্ডীয় সম্পত্তি নাকি চরের জমি।”
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে খবর পেয়েই আমরা অভিযান চালিয়েছি, তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাইনি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি কেউ চরের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”