Published : 06 Mar 2026, 12:18 PM
“পছন্দের পোশাক পাওয়া গেলেও দাম একটু চড়া। ঈদ বলে কথা, তাই বেশি দাম দিয়েই দুটি শার্ট কিনেছি।” কথাগুলো বলছিলেন শেরপুর শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকার ‘সম্পদ প্লাজায়’ কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা মো. আব্দুর রাকিব স্বাধীন।
ঈদকে সামনে রেখে স্বাধীনের মতো শেরপুরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করছেন; সাধ্য অনুযায়ী কিনছেন পছন্দের পোশাক।
বিশেষ করে শহরের অভিজাত শপিংমল, বিপণিবিতান, বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রঘুনাথ বাজার, মুন্সিবাজার, তেরা বাজার, নয়ানিবাজার, নিউমার্কেট, শহীদ বুলবুল সড়ক ও শেরপুর পৌরসভার টাউন হল মার্কেট এলাকায় তৈরি পোশাক, গজ কাপড়, কসমেটিক্স, শাড়ি ও জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার মাঝামাঝি সময়ে এসে ঈদের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বিক্রি আরও বাড়বে বলে তাদের আশা।

শহীদ বুলবুল সড়কের ‘কাকলি কমপ্লেক্সের’ চলন্ত সিঁড়ি এবার ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিপণিবিতান গুলোতে ক্রেতা টানতে মাইকে চটকদার প্রচারও চালানো হচ্ছে।
শহীদ বুলবুল সড়কের ‘ঊষা বস্ত্রালয়ের’ মালিক নীল রতন চাকী বলছিলেন, “রোজার মাঝামাঝিতে এসে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এরকম থাকলে ব্যবসা আরও ভালো হবে।”

ওই সড়কের ‘মৌ ফ্যাশন দোকানের মালিক আতাউর রহমান বলেন, “পহেলা রোজা সাত-আট দিন বেচাকেনা একদম ছিল না। দশ রমজানের পর থেকে এখন পর্যন্ত বেচাকেনা একটু বেড়েছে।”
এ ব্যবসায়ী বলছেন “ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে বেচাকেনা তত বাড়বে। তবে এবার মানুষ দামাদামি একটু বেশি করছেন।”
মৌ ফ্যাশনে কেনাকাটা করতে আসা রাশিকা জান্নাত রুপু বলেন, “ঈদের জন্য জর্জেট কাপড়ের থ্রি-পিস কিনেছি। কিন্তু দাম একটু বেশি। আড়াই হাজার টাকা দামের থ্রি-পিস দামাদামি করে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”

তবে এবারের বেচাকেনা অন্য বারের তুলনায় কিছুটা কম বলে নয়ানি বাজারের ‘জননী বস্ত্রালয়ের’ মালিক দুলাল সাহা জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, “রোজার অর্ধেক সময় চলে গেছে; যেরকম আশা করেছিলাম সেরকম বেচাকেনা হচ্ছে না। দেখি সামনে আরও কয়েকটা দিন আছে। তখন হয়তো বাড়বে।”
রঘুনাথ বাজার এলাকার সম্পদ প্লাজার ‘আরশ ওয়্যারের মালিক’ নাহিদুর রহমান অবশ্য বলছেন, “বেচাকেনা খারাপ না; মোটামুটি ভালোই হচ্ছে।”