১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তায় আবার পাথর উত্তোলন: নীলফামারীতে ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন ধ্বংস

নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন কঠোর হস্তে দমন করার কথা বলেছেন ইউএনও।

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 08:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে আবার অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে এক শ্রেণির অসাধু।

পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন জব্দ করে ধ্বংস করেছে টাস্কফোর্স।

অভিযানে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, রংপুর-৫১ বিজিবির মেজর জুলকার নাঈন ও ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

ইউএনও ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। 

“খুব শিগগিরই তদন্ত ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

তিস্তা নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, “এটি এককালীন অভিযান নয়। কেউ পুনরায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে শুধু সরঞ্জাম ধ্বংস নয়, এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলা করে চক্রের সদস্যরা। এতে আহত হন ১৭ জন। এ ঘটনায় কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে আবার বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করে।

জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার।