১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জামালপুরে গ্যাসের দাবিতে অটোরিকশা চালকদের ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

“আমরা টাকা দিয়ে গ্যাস নেই, তারপরেও তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।”

জামালপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 11:53 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অবরোধ চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার।

তিনি বলেন, “অটোরিকশা চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে, এখন জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

এর আগে অবরোধের কারণে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ছোট যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যানজট নিরসন না হওয়ায় অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। অনেকে বিকল্প যানবাহনের খোঁজ করেন। পরে চার ঘণ্টা অবরোধ চলার পর জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, জামালপুরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কয়েকদিন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। পাশাপাশি গ্যাস পাম্পের মালিক ও শ্রমিকদের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, পাম্পের মালিক ও শ্রমিকরা ‘ভিআইপির’ নামে ইচ্ছে মতো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অন্য গাড়িকে আগে প্রাধান্য দেয়। 

গাড়িতে চাহিদা মতো গ্যাস না পেয়ে প্রতিদিনের আয় কমে যাওয়ায় সংসারের চাকা ঘোরানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান চালকরা। 

অববিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

আখতার হোসেন নামের এক চালক বলছিলেন,“আমরা টাকা দিয়ে গ্যাস নেই, তারপরেও তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। একটি মাত্র গ্যাস পাম্প থাকার সুযোগে তারা চালকদের সঙ্গে যা-তা ব্যাবহার করেন।”

তিনি বলেন, “এই গ্যাস পাম্পের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি জেলার জন্য আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করাও জরুরি।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও নাজনীন আখতার বলেন, “চালকদের সঙ্গে তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানে কাজ করা হবে।”