Published : 12 Aug 2026, 05:23 PM
সিলেট নগরীর একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও কাজের মেয়ের গলা কাটা মরদেহ পাওয়া গেছে।
বুধবার সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা।
ডিসি (উত্তর) সাইফুল বলেন, “খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।”
নিহত আব্দুস সাত্তারের বড় মেয়ের জামাইয়ের ভাগ্নি সাংবাদিকদের বলেন, “ নিহতের মেয়ের জামাই (মামা শ্বশুর) আমাদের বিদেশ থেকে ফোন করে জানিয়েছেন, তার শ্বশুর-শাশুড়ি কাজের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। উনি ৯০ বছরের বয়স্ক মানুষ। আমার জানা মতে, উনার কোনো শত্রু ছিল না, কেন তাকে খুন করা করা হয়েছে জানি না। তিনি ব্যবসা করছেন, তিনি সিলেটের সম্মানিত একজন মানুষ, সবাই উনাতে এক নামে চিনে। উনি ৪০ বছর আগে এখানে বাসা করে এসেছেন।’’
তিনি বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা কোথায়, আমরা বুঝতেছি না। আমরা সবাই প্রবাসী, আমার বাবা-মাও তো একা থাকেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়, আমরা এর বিচার চাই।’’
সিলেট মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলেন, ‘‘মিতালী ১১১ নম্বর বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সবসময় সত্য কথা বলতেন।’’
নিহত দম্পতির পাশের বাসার বাসিন্দা টিপু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সকাল ৯টার দিকে রায়নগর এলাকায় বিদ্যুত ছিল না। এ সময় প্রায় প্রত্যেক বাসার সদস্যরাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আনুমানিক ৯টার দিকে সাত্তার মিয়ার বাসা থেকে হঠাৎ করে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়।”
“তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, অসুস্থ সাত্তার মিয়া হয়তো বিছানা থেকে পড়ে গেছেন। তাই বিষয়টিকে কেউ তেমন গুরুত্ব দেননি।”
তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ পর আমার বাসার নারীরা সাত্তার মিয়ার বাসার বারান্দায় রক্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
“ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে।”
তিনি বলেন, “চার তলার ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, তারা সকালের দিকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন। ঘটনা তদন্তে পুলিশের সিআইডি, পিবিআই এবং স্পেশাল টিম একযোগে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যের সহায়তায় দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।”
“ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ কমিশনার বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে।”
এ বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।