১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালীতে বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি

“জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যুবদল নেতা সোহেলকে বাড়িতে গুলি করে পালিয়ে যায়।”

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 03:53 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে যুবদলের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতাকে গুলি করার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন। 

গুলিবিদ্ধ ৩৫ বছর বয়সী মো. সোহেল ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে।  তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, “গুলিবিদ্ধ সোহেল গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বর্তমান সভাপতি।” 

যুবদলের নেতা-কর্মীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সোহেল রসুলপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সাত-আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে তার শরীরে একাধিক ছররা গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শিবিরের কর্মীদের এ ঘটনার জন্য দায়ী করে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলছেন, “বেগমগঞ্জের তিন-চারটি ইউনিয়ন জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এর আগে ছয়ানী ইউনিয়নেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।”

গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীবের অভিযোগ, “জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যুবদল নেতা সোহেলকে বাড়িতে গুলি করে পালিয়ে যায়।”  

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রশিবির উত্তর জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী নিজেই অস্ত্র নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করলে সত্যিটা জানা যাবে।” 

গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আবু তাহেরের দাবি, “এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।”

পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি শটগানের ছররা গুলির আঘাত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব আহম্মদ চৌধুরী বলেন, “সোহেলের পেটের ডান পাশে একাধিক ছররা গুলি লেগেছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”