১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকবাহী নৌযান নিষিদ্ধ

নিবন্ধন ও অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 09:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, প্রতিবেশের সুরক্ষার জন্য পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

একইসঙ্গে ১০ অগাস্টের মধ্যে হাওরে পর্যটকবাহী সব নৌকা নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে জেলা প্রশাসনের পেইজে এই গণবিজ্ঞপ্তি দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

পরে বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সংবাদিকদের জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, হাওর ও পর্যটকদের ভ্রমণকে নিরাপদ রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  

গণবিজ্ঞপ্তিতে টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫ এর আলোকে হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ অগাস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন না করলে কিংবা অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিবন্ধনের জন্য নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), কার্যালয়ে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে।

ইসিএ এলাকায় হাউসবোটের প্রবেশ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার এবং মাস্তি পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না এবং প্রতিটি নৌযানে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বোটে বাধ্যতামূলক সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করা, হাওরে বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

পর্যটকদের আচরণবিধি ভ্রমণ শুরুর আগে অবহিত করা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। 

জরুরি প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের যোগাযোগ নম্বর নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো, প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।