Published : 29 Jul 2026, 11:48 AM
“আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ-তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব?”-কথাগুলো বলছিলেন শাড়ি পরে গানের তালে হাঁটার ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন।
বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেখা যায়, শাড়ি পরে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছেন। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা সমালোচনা ও ট্রল।
এদিকে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা শুরু হলে প্রতিবাদে অনেক নারী একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। বিউটি রাণীর পক্ষে পোস্ট দিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন অনেকে। ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই শিক্ষিকা।
এদিকে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেইসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
তার ভাষ্য, “উনি (আসিফ) আমার ভিডিওটা ডাউনলোড করে নিয়ে উনার পত্রিকায় নিউজ করেছেন এবং উনার ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজেও আমার সম্পর্কে আজেবাজে লিখেছেন।”
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ আয়োজনে সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রানী পাল।
তার ফেইসবুক আইডিতে বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচ-গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্ন ও পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শেখানো, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ এবং গাছের চারা বিতরণের বিভিন্ন ভিডিও দেখা যায়।
বিউটি রাণীর অভিযোগ, আসিফ ইকবাল ইরনের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ কাজ করেছেন। হিরণ ফোন করে ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রশ্ন-যেমন, বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কি না-করে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেন। পোস্টটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
তিনি বলেন, “কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।”
সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বিউটি বলেন, “শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হলে সমাজ আরও নৈতিক হবে।”
ভিডিও ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আসলে রিল (গানসহ ছোট ভিডিও) বানাতে জানি না। এক সহকর্মীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে রিল বানানো হয়। স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের আঙিনায় হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন।”
আক্ষেপ প্রকাশ করে এই শিক্ষিকা বলেন, “আমাদের মন-মানসিকতা যদি ডিজিটাল, স্মার্ট ও উন্নত করতে না পারি, তাহলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক থেকেই সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে।”
শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসিফ ইকবাল ইরনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জিডি করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। জিডিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’সহ কয়েকটি ফেইসবুক পেইজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’