Published : 05 Mar 2018, 10:23 PM
কেন্দুয়া থানায় রোববার নবজাতকের মায়ের দাবি নিয়ে আসেন ওই নারী। সেই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধের নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন বলে কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন সরকার জানান।
আসামিরা হলেন উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বানিয়াগাতি গ্রামের মামুন মিয়া (২৫), তার বাবা আবুল হাশেম ও মা মমতা আক্তার।
গত ১ মার্চ ভোরে সাজিউড়া-ছনভিটা সড়কের পাশে নবজাতককে পান উপজেলার বানিয়াগাতি গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী মীনা আক্তার। এ সময় তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার বরাত দিয়ে পরিদর্শক স্বপন বলেন, ওই নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। অভাবের কারণে গ্রামেরই শিরিন আক্তার নামের এক নারীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। এ সময় শিরিনের চাচাত ভাই মামুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
“গত বছর ২ এপ্রিল থেকে এ ঘটনার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে বিয়ে না করে এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে যান মামুন । বিষয়টি মামুনের বাবা-মাকে জানালে ওই বাড়ি থেকে তাকে গৃহকর্মীর কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।”
মামলায় আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রসববেদনা হলে তিনি মামুনদের বাড়িতে যান। মামুনের মায়ের সহযোগিতায় রাতেই তিনি একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। এ সময় তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মামুনের বাবা আবুল হাশেম ও মা মমতা আক্তার নবজাতককে রাস্তার পাশে রেখে আসেন এবং সংজ্ঞা ফিরলে তাকে তার বাবার বাড়িতে দিয়ে আসেন।
উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান পরিদর্শক স্বপন সরকার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল হাশেম বলেন, মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ থাকায় ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সোমবার নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।