শুধু একটি পা আছে জেএসসি পরীক্ষার্থী তামান্নার
কিশোরী তামান্না নূরার জন্ম থেকে দুই হাত ও এক পা নেই। একটি পা দিয়েই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিবন্ধী।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া তামান্না এবার অংশ নিচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বাজার সংলগ্ন আলিপুর গ্রামের রওশন আলী ও শিল্পী বেগমের বড় মেয়ে তামান্না। নিজের স্কুল বাঁকড়া জে কে হাই স্কুল কেন্দ্রেই পরীক্ষা দিচ্ছে সে।
দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তামান্না। ছোট বোন মমতাহেনা রশ্মী প্রখম শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মহিবুল্লার বয়স দুই বছর।
রওশন আলী বলেন, প্রথম সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় মানুষের নানা কথা শুনতে হয়েছে তাদের। তাই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
শিল্পী বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জন্ম থেকেই ওর দুটি হাত ও একটি পা নেই; কিন্তু তামান্না সব কাজ নিজে করতে পারে। পা দিয়ে খাওয়াদাওয়া, সাজগোজ করা, চুল আঁচড়ানো, বইয়ের পাতা উল্টানো, ছবি আঁকা, রুলার দিয়ে খাতায় দাগ কাটা, লেখার কাজ সবই করতে পারে। পা দিয়ে করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
শিল্পী বলেন, “ছোটবেলায় পড়ার প্রতি তামান্নার প্রবল আগ্রহ দেখে ভাবলাম পড়ায় ভালো হলে কেন লিখতে পারবে না। তাই ওর বাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম আটকিয়ে দিয়ে লেখার তালিম দেই। কয়েকদিনের মধ্যেই ও সুন্দর লিখতে শিখে যায়।
“কিন্তু স্কুলে ভর্তি করার জন্য নিলে কেউ তাকে ভর্তি করাতে চায়নি। অবশেষে আমার স্বামীর অনুরোধে বাঁকড়ার একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আজমাইন এডাস স্কুলের’ শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার তার ভর্তির ব্যবস্থা করেন।”
জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়ও সে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাবে এমনটি আশা করছেন বাঁকড়া জে কে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল খান।
হেলাল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তামান্না পড়াশোনায় অত্যান্ত ভালো। মুখ ও পা ব্যবহার করে জ্যামিতির চিত্র আঁকার পাশাপাশি সে খুব ভালো ভালো ছবিও আঁকতে পারে। একটি পা দিয়ে আর মেধাকে কাজে খাটিয়ে সে অনেক পথ পাড়ি দিতে চায়।
তামান্না বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। দেশের প্রতিবন্ধীরা যে সমাজের বোঝা নয় তা প্রমাণ করার লক্ষ্যেই কাজ করতে আগ্রহী বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায় তামান্না।
স্কুলে আসা-যাওয়ার জন্য রওশন আলী মেয়ের জন্য একটি হুইল চেয়ার ও ক্লাসে বসার জন্য একটি টেবিলের ব্যবস্থা করেছেন। একটি প্রতিবন্ধী কার্ড ছাড়া সরকারি বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি তামান্না।
