২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের উপস্থিতিতেও হামলা কেন, নাসিরনগরে মানববন্ধনে প্রশ্ন

পুলিশের ‘সতর্ক অবস্থানের’ মধ্যেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা হওয়ায় শুধু পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Nov 2016, 01:40 PM

Updated : 20 Aug 2022, 02:09 PM

গত কয়েকদিনে দুই দফা হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে রোববার নাসিরনগরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এ প্রশ্ন তোলেন।

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ‘নাসিরনগরের সর্বস্তরের জনগণ, ‘নাসিরনগরের হিন্দু সমাজ, নাসিরনগর উপজেলা সর্বসাধারণ জনগণ’, এর ব্যানারে এই মানবন্ধন হয়।

‘রামু থেকে নাসিরনগর, পরিকল্পিত হামলা কেন? জবাব চাই;’ ‘ভোট আছে, অধিকার নাই, নিরাপত্তা নাই কেন?;’  ‘সংখ্যালঘু আইন ও আইনের বাস্তবায়ন চাই’ এমন নানা স্লোগান লেখা পোস্টার, ফেস্টুন নিয়ে সহস্রাধিক মানুষ মানবন্ধনে অংশ নেন।

‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

হামলা ঠেকাতে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর প্রত্যাহার করা হয় নাসিরনগর থানার ওসিকে।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হলেও গত শুক্রবার ভোরে ফের হিন্দুদের চারটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের সঙ্গে সেখানে র‌্যাব ও বিজিব মোতায়েন করা হয়।

মানববন্ধনে সার্বজনীন গৌরমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বলেন, “গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একটা মিটিংয়ে ছিলাম। ওই সময় খবর পাই উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানের (যিনি হিন্দু) বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

“একদিকে হামলা হবে, অন্যদিকে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করতে থাকব, এটা হতে পারেনা।”

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান তিনি।

প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতেই হামলা হওয়ায় আতঙ্কের কথা জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের এই নেতা।

“ধারাবাহিক হামলার পর আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের এত উপস্থিতি তারপরও এগুলো হচ্ছে কেন? হামলার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কিনা সেটা আমরা স্পষ্ট করে জানিনা। যদি থাকে তবে খুঁজে বের করা হোক।”

পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিপদ পোদ্দার বলেন, “ভাংচুর হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।

“এখন পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে কিনা আমরা বুঝছি না।”

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রতিরোধে মুসলিমদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্থানীয় আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মহেন্দ্র চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, “এদেশ তো আমাদের সবার। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি এদেশের স্বাধীনতার জন্য। এখন আমাদের এই পরিস্থিতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাই। একা একা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব না।”

ফেইসবুকে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে আটক রসরাজ দাসের বিচার দাবি করেন ভলাকুট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কার্তিক চন্দ্র দাস।

“নিরক্ষর রসরাজ ফেইসবুকে আপত্তিজনক পোস্ট দিয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে একশ বাড়ি, ১৬টি মন্দিরে হামলা হয়েছে। মেয়ে-ছেলেদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। পুরো এলাকায় অশান্তি বিরাজ করছে।

“রসরাজের বিচারের দাবি জানাচ্ছি এবং পরবর্তীতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার চাচ্ছি।”