১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধার সোনালী ব্যাংকে কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে ২৯৮ আমানতকারীর স্বাক্ষর জাল করে ঋণ হিসেবে কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Sep 2016, 07:47 PM

Updated : 12 Apr 2022, 02:55 AM

ভরতখালী শাখায় এই জালিয়াতির ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ কর্মকর্তাদের একটি অংশকে সন্দেহ করছেন গ্রাহকরা।

অন‌্যদিকে শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুনের দাবি, তিনি ‘ষড়ন্ত্রের শিকার’।

জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সোনালী ব‌্যাংকের গাইবান্ধা প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) দেবেশ চন্দ্র সরকারকে প্রধান করে গত ৮ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে কর্তৃপক্ষ।

একই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) সাইদারুল ইসলাম ও সিনিয়র অফিসার জ‌্যেতির্ময় সরকার ওই কমিটিতে সদস‌্য হিসেবে আছেন।

ভরতখালী শাখায় আমানতকারী রিপা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সম্প্রতি তার এমডিএস সঞ্চয় স্কিমের বিপরীতে ঋণের আবেদন করতে গিয়ে ‘জালিয়াতির’ বিষয়টি টের পান তিনি। 

“আমাকে বলা হয়, আমার নামে এরই মধ‌্যে ৫৫ হাজার টাকা ঋণ তোলা হয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন আরেক আমানতকারী রিনা খাতুন। তার নামে উত্তোলন করা ঋণের পরিমাণ ৪৭ হাজার টাকা।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বণিক বলেন, “আমি এমডিএস সঞ্চয় স্কিমের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার আবেদন করার পর শাখার ম‌্যানেজার দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা করতে থাকে। পরে জানতে পারি, আমার নামে এক লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।”

রবীন্দ্রনাথ বণিক বলেন, ব‌্যাংক কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন, স্বাক্ষর জাল করে ওই ঋণ তোলা হয়েছে বলে এখন তারা সন্দেহ করছেন।

“তবে এই ঘটনার সঙ্গে ব্যবস্থাপকসহ একটি চক্র অবশ্যই জড়িত আছে বলে আমাদের সন্দেহ।”

ওই শাখার দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদি শিক্ষা, সোনালী ও চিকিৎসা সঞ্চয় স্কিম ইডিএস, এসডিএস ও এমডিএস এর পাঁচ শতাধিক আমানতকারী আছেন তাদের শাখায়।

এর মধ্যে ২৯৮ জন গ্রাহকের নামে জালিয়াতির অভিযোগ তারা পেয়েছেন। ৪৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা হয়েছে এক একজনের নামে। সব মিলিয়ে টাকার অংক কোটির বেশি।

একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাদের সঞ্চয় স্কিমের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার জন্য ব্যাংকে এলে শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ পায়।

পরে আমানতকারীরা সোনালী ব্যাংকের গাইবান্ধা প্রিন্সিপাল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হাসিম উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “ঘটনার পর থেকে ব্যাংকের অনিয়মিত অস্থায়ী কর্মচারী ‘টি বয়’ আলমগীর গা ঢাকা দিয়েছে। ওকে ধরতে পারলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

তবে ব‌্যাংক বা আমানতকারীদের কেউ এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা করেনি। 

তদন্ত কমিটির প্রধান দেবেশ চন্দ্র সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।”

ডিজিএম হাসিম উদ্দিন বলেন, “আমানতকারীর আমানত সুরক্ষিত আছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”