যমুনার ভাঙনে অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন
গত দুই সপ্তাহে যমুনার ভাঙনে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুটি গ্রামের অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১৫০ বিঘা উঠতি পাটক্ষেত, আবাদি জমি, ঈদগাহ মাঠ ও অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে।
এতে হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া ও গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহহীন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ স্থানীয় বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
যমুনার পাড়ে বালুর ব্যাগ ফেলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পাউবো জানালেও তারা সুদূরপ্রসারী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই ভাঙনের প্রবণতা বাড়ে। আর দফায় দফায় বৃষ্টিপাতে ভাঙন বেশি হয়েছে।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট এলাকা বিলীন হচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে অল্পদিনের মধ্যে গোটা কানাইপাড়া গ্রাম নিশ্চিহ্ন হবে।”
কিন্ত বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও পাউবো ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের কানাইপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৫০) বলেন, “সাতদিনের ব্যবধানে যমুনার ভাঙনে আমার তিনটি ঘর ও একবিঘা জমির পাটক্ষেত বিলীন হয়ে গেছে। আমরা সরকারি জায়গায় ঘর তুলে আছি; কিন্তু ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কানাইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়রা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ উঠতি পাট কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।
ভাঙনের ছবি তুলতে গেলে গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া (৫০) বলেন, “প্রত্যেকবার আপনারা খালি ফটো তুলি নিয়া যান, ফটোক তুলি কি করব্যান, হামরা তোমাঘরে কাচে ট্যাকা-পয়সা চাইনে, নদী ভাঙার হাত থাকি হামার ঘরোক বাঁচান।”
“নদী হামাঘরে সবকিচু কারি নিচে। হামরা একন কোনটে যামো।”
ওই গ্রামের গ্রামের রমিছা বেগম (৪৫) বলেন, “বাবা হামার নাম কোনাও নেকি নেও। কয়দিন আগে হামারঘরে দুইটে ঘর এক বিঘে জমির কোসটা (পাট) নদিত গেচে। তকন থাকি মানষের বাড়িত আচি।”
দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেই সংসার চলত একই গ্রামের কৃষক জাফর আলীর (৫০)। পাটসহ সেই জমিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, হলদিয়া ইউনিয়নে ভাঙন রোধে বালুভরতি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে।
“এছাড়া সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ভরতখালি, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ভাঙন রোধে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
প্রকল্প অনুমোদন হলে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
