২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কপোতাক্ষের তীরে ৩ লাশ, পুলিশ বলছে ‘গণপিটুনি’

যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষের তীর থেকে তিনটি রক্তাক্ত লাশ পাওয়ার পর পুলিশ বলছে, ‘ডাকাত সন্দেহে পিটুনিতে’ তাদের মৃত্যু হয়েছে।

যশোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jun 2016, 11:07 AM

Updated : 20 Aug 2022, 12:59 PM

অবশ্য স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেছেন, ওই এলাকায় ডাকাতি বা গণপিটুনির কথা তিনি শোনেননি।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার সকালে ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর এলাকার কাটাখাল থেকে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ওই তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।

ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্যা খবির আহমেদ জানান, “মঙ্গলবার গভীররাতে ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর এলাকায় ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। তাদের মধ্যে তিনজন ধরা পড়ে এবং পিটুনিতে তারা মারা গেছে বলে আমি শুনেছি।”

নিহতদের কারও পরিচয় জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনিও সকালে লোকমুখে তিনজনের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান।

“তবে গতরাতে কারও বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা বা রাতে গণপিটুনির কথা আমি শুনিনি।”

স্থানীয়রা জানায়, কাটাখাল এবং কপোতাক্ষ নদের সংযোগস্থলে ছোট একটি পার্ক করা হয়েছে স্থানীয় পৌরসভার উদ্যোগে। ওই পার্কের ভেতরে কাছাকাছি দূরত্বে পড়ে ছিল রক্তাক্ত লাশগুলো।

সোমবার মধ্যরাতে ওই পার্কের কাছাকাছি এলাকায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে তৌহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে পুলিশের এক এসআই আহত হন। তাকে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগাযোগ আছে কি না- তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঝিকরগাছা পুলিশের এসআই আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, তিনি তিনজনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

“নিহতদের তিনজনের মাথার সামনে, পেছনে এবং কানের পাশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।”

নিহতদের মধ্যে একজনের বয়স ৩০ এর আশেপাশে। বাকি দুজনের চল্লিশের কাছাকাছি বলে স্থানীয়দের ধারণা।

ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহগুলো যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে এসআই আকরাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।