শোলাশিল্পে জীবিকা
নামে তারা মালাকার হলেও তৈরি করেন আরও অনেক কিছু; ফুল, পাখি, মালা, মুকুট, টুপিসহ বাহারি রঙের নানা খেলনা, পূজা ও বিয়ের সরঞ্জাম।
বিয়ে, পূজা ও মেলার সঙ্গে মালাকারদের জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক।
মাগুরার শালিখা উপজেলার শতপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, জলজ উদ্ভিদ শোলা দিয়ে মালাকার পরিবারের সদস্যরা তৈরি করছেন নানা রকম শিল্পকর্ম।
কয়েকটি বাড়ির প্রতিটি ঘরের বারান্দা ও উঠানে বসে ধারালো ছুরি দিয়ে কেউ শোলা কাটছে, কেউ রং করছে, কেউবা মালা গাঁথছে। দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি জিনিসপত্র জীবন্ত হয়ে উঠছে।
মালাকার সম্প্রদায়ের প্রধান ৭০ বছরের শংকর মালাকার জানান, বংশপরম্পরায় তারা এ পেশায় জড়িত।
বতমানে তিনি ও তার স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন ছেলের বউ ও মেয়ে-জামাই মিলে পরিবারের ১০ সদস্য শোলা দিয়ে নানা শিল্পকর্ম তৈরি করেন।
এছাড়া এলাকার অরও ১৫-২০ জন হাজিরা ভিত্তিতে তাদের কাজে সহযোগিতা করে।
এ কাজ করেই শংকরের ১৫ সদস্যর সংসার চলছে। চলছে নাতি-পুতিদের পড়ালেখার খরচ-বরচ।
শংকর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ কাজ করে তাদের পাশাপাশি এলাকার আরও ১৫-২০ জন নারী-পুরুষ প্রত্যেকে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা করে আয় করছে।
আধুনিক সাজ-সজ্জার আধিক্যর মধ্যেও সারা দেশের মানুষের কাছে প্রাচীন এই কারুশিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান।
“বিশেষ করে পূজা ও বিয়ের এমন কিছু উপকরণ রয়েছে যা এই শোলার শিল্পকর্ম ছাড়া সম্পন্ন হয় না।”
তারা এগুলো সোনারগাঁ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। আবার অনেকেই এসব উপকরণ পাওয়ার জন্য অগ্রিম ফরমায়েশ দেয়।
শংকর বলেন, শোলা জন্মে বিল-বাওড় বা জলাভূমিতে। আগে তারা এসব নিজেরাই সংগ্রহ করতেন। এখন জলাভূমি কমে যাওয়ায় অন্যদের মাধ্যমে নড়াইল ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
“বর্তমানে ৩০-৪০টির এক আঁটি সোলা নড়াইল ও খুলনা জেলার বিল এলাকা থেকে কিনে বাড়ি পৌঁছাতে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। রং-সুতাসহ সহায়ক উপকরণের দামও অনেক বেড়েছে। এখন এ শিল্পে অনেক পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়।”
আগে এলাকার প্রতিটি মালাকার সম্প্রদায়ের সব বাড়িতে শোলার কারুপণ্য তৈরি হলেও এখন মাত্র তিন-চারটি পরিবার এ পেশায় জড়িত বলে তিনি জানান।
বিসিক পরিচালিত মাগুরার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ফাউন্ডেশনের সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুস সামাদ বলেন, সারাদেশেই শতপাড়ার মালাকারদের উৎপাদিত পণ্যর ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
“মাগুরায় বিসিক শিল্পনগরী না থাকায় এ ধরনের কারুশিল্প প্রতিষ্ঠান দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”
তবে এর সাথে জড়িতরা এগিয়ে এলে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।
