Published : 18 May 2016, 10:01 PM
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক গাজী মোমিন উদ্দিনের (৩৯) উপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ করেছে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা।
তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধের জেরে গত সোমবার হামলার শিকার হন গাজী মোমিন উদ্দিন। তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি প্রসাদপুর গ্রামের মৃত আকমত গাজীর ছেলে।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজুর লোকজন এ হামলা চালায় বলে স্বজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ।
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দেশে তোলপাড়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র জি এম নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্কুল স্টুডেন্ট কেবিনেট সভাপতি তাহমিদ হাসান সংগ্রাম, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ও পারভেজ ইমাম।
ঘটনার তিন দিনেও পুলিশ শিক্ষকের পরিবারের দেওয়া মামলা নথিভুক্ত না করার প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
শিক্ষক গাজী মোমিন উদ্দিনের স্ত্রী শামিমা পারভিন লিপি বলেন, গত ২২ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের পরিবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন করে। এতে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত রাজু তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন।
“এর জেরে সোমবার শপথ নিয়ে এসেই চেয়ারম্যান রাজুর লোকজন নৌকার সমর্থকদের উপর হামলা শুরু করেন।”
তার অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে রাজুর বাহিনী মোমিনের উপর হামলা চালায়। ওই সময় তারা মোমিন ছাড়াও দাশকাঠি গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য লিয়াকত গাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ গাজীকেও (২৯) মেরে গুরুতর আহত করে। তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মামলা দিতে গেলে থানা পুলিশ চেয়ারম্যান রাজুর নাম বাদ দিয়ে অভিযোগ লিখতে বলে। কিন্তু তার নাম বাদ না দেওয়ায় মামলা নেয়নি পুলিশ।
তালা থানার ওসি ছগির মিয়া বলেন, মামলা হয়নি। তবে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মামলা না নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে পরাজিত হওয়া জেলা আওয়ামী লীগ নেতা প্রণব ঘোষ বাবলু বলেন, মোমিনের উপর হামলার ঘটনার পর থেকে নৌকার সমর্থকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
সোমবার বিকালে রাজু চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত মোড়ল, তার ছেলে সেলিম ও মহাসিনসহ ‘ক্যাডার’ সাইদুর, বাছা, কুদ্দুস, মহাসিন, আশরাফ ও রফিকুল এলাকায় মহড়া দেয় এবং হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার ইমান আলী বলেন, শপথ নেওয়ার পরই প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর হামলা শুরু করে চেয়ারম্যান রাজুর লোকজন।
গুরুতর আহত মোমিন উদ্দীন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আজিজুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।