Published : 02 May 2016, 11:38 AM
জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় এ সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় দিনে দু-তিনবার গাছে পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, চলতি বছর বরেন্দ্র (সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও মান্দা) এলাকায় আট হাজার সাতশ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।
পাঁচ বছর ধরে এসব এলাকায় লেংড়া, গোপাল ভোগ, ক্ষীরসা পাত, রুপালীসহ বিভিন্ন জাতের আম বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এবার মৌসুমের শুরতে গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল ও গুটি আসে। আম বাগান মালিকরা ভালো ফলন আশা করেছিলেন।“কিন্ত দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবদাহে আমের বোঁটা শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়নত ঝরে পড়ছে ছোটবড় আম। এভাবে টানা খরা চললে আমের ফলনে বিপর্যয় ঘটতে পারে।
“এ অবস্থায় আম টিকিয়ে রাখতে দিনে দু-তিনবার গাছে পানি স্প্রে করাসহ ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করার পরার্মশ দেওয়া হয়েছে।”
যারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে কাজ করছেন তাদের আমের ক্ষতির আশংকা কিছুটা কম বলে জানান মাহবুবুর রহমান।
পোরশার নিতপুরের আমচাষি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আম ঝরে পড়া রোধ করতে পানি, স্প্রে ও বালাইনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে, কিন্ত এতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না।”
একই উপজেলার দোয়ারপাল এলাকার বাগান মালিক গোলাম রব্বানী বলেন, তীব্র খরায় বোঁটা শুকিয়ে গিয়ে আম ঝরে পড়ছে। পানি স্প্রে করেও আম গাছে ধরে রাখা যাচ্ছে না।
আমের উৎপাদন এবার অর্ধেকে নেমে আসতে পারে ধারণা করছেন তিনি।সাপাহারের বাগান মালিক বাবুল আখতার বলেন, প্রথম দিকে বেশ ভালো দামে বাগান বিক্রি হলেও বর্তমানে যেভাবে আম ঝরে পড়ছে তাতে এক লাখ টাকার বাগান ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।
“তীব্র খরা ও দাবদাহে শুধু আম ঝরে পড়ছে তা নয়, কিছু কিছু আমে পচনও দেখা দিয়েছে,” বলেন নিয়ামতপুরের আমচাষি তোফাজ্জল।
আমের ফলন বিপর্যয় রোধ করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিতে বলেছেন উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা।